এমপি আনার হত্যা : মোটিভ নিয়ে ধোঁয়াশায় ডিবি

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যায় জড়িত সাতজনই গ্রেপ্তার হলেও এই ঘটনার মূল কারণ এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডে কারা আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে লাভবান সেটা বের হবে। সম্ভাব্য সব কারণ আমলে নিয়ে  তদন্ত করছে ডিবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনার খবর যখনই আমাদের কাছে আসে তখনই আমরা কিন্তু মাস্টারমাইন্ড শিমুল ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করি। এরপর তানভীর ও শিলাস্তিকে গ্রেপ্তার করি। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর আমরা নিজেরা কলকাতায় গিয়ে সঞ্জীভা গার্ডেন পরিদর্শন করি। এই হত্যাকাণ্ডে আরও দুজন জড়িত দুজনের নাম জানতে পারি। তারা ফয়সাল ভুঁইয়া ও মোস্তাফিজুর রহমান। তারা আত্মগোপনের জন্য ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ডের মাঝখানে পাতাল কালীমন্দিরে লাল ধূতি পরে অবস্থান করছিলো। সেখানে তারা ধর্মীয় পরিচয় পাল্টে বাঁচার জন্য লুকিয়েছিলো।

তিনি বলেন, এই দুজনকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের একটি টিম ছিলো ঝিনাইদহে, সুন্দরবনেও একটি গিয়েছিল। আর দুটি টিম খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ডে কাজ করছিলো অনেকদিন ধরে। সবদিকে গোয়েন্দা জাল বিছিয়ে আমরা সেই দুজনকে গ্রেপ্তার করি। শিমুল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের জন্য যা যা করার দরকার তারা তাই করেছে।

সীতাকুণ্ডে নাম-পরিচয় পাল্টে আত্মগোপনে ছিল ফয়সাল-মোস্তাফিজ

হত্যার মূল মোটিভটা কী জানতে চাইলে হারুন বলেন, এই সংসদ সদস্য কিলিং মিশনে জড়িত সাতজনের সবাই গ্রেপ্তার হয়েছে। যেকোনো হত্যার পেছনে একটা মোটিভ থাকে। আনোয়ারুল আজীম আনার জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। তাকে টাকা-পয়সা লেনদেনের কথা বলে যান শাহীন। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিলো? কারা লাভবান? কারা আর্থিক, রাজনৈতিকভাবে লাভবান সেটা আশা করি বের হবে। সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম হত্যায় মোটিভ তো অবশ্যই আছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা সুনির্দিষ্ট মোটিভ বলতে পারছি না।

সংসদ সদস্য আনার কিলিং মিশনে সাতজন অংশ নিয়েছেন, সাতজনই গ্রেপ্তার হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে শিমুল ভুঁইয়া, ফয়সাল, মোস্তাফিজুর ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার, আমাদের তথ্যের ভিত্তিতে নেপালে আত্মগোপনে থাকা গ্রেপ্তার সিয়াম, তানভীর ও শিলাস্তি। এর বাইরে আরও দুজন আমাদের কাছে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু ও গ্যাস বাবু। ঢাকার ডিবির হাতে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আখতারুজ্জামান শাহীনের বিষয়ে হারুন বলেন, শাহীন মাস্টারমাইন্ড ছিল, আছে। তিনি তদন্ত থেকে শেষ হয়ে যাননি। কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত সাতজন। সাতজনই গ্রেপ্তার। এর বাইরে মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী, মোটিভ, অর্থদাতা এগুলো তো অন্য বিষয়। এখনো আমাদের কাছে শাহীন মাস্টারমাইন্ড। কারণ উনিইতো তার পাসপোর্ট দিয়ে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। হত্যার পরিকল্পনা, বাসা ভাড়া, এসবই তো শাহীন করেছে। শাহীন ১০ মে দেশে ফিরে এসেছেন।

এমপি আনার হত্যা : দুই আসামি ফয়সাল ও মোস্তাফিজকে গ্রেপ্তার

  • এমপি আনার
  • গ্রেপ্তার
  • ডিবি
  • হত্যা
  • #