বিকৃতভাবে কোরআনের আয়াতকে উপসস্থাপন করে বই লিখে তা প্রচার করায় আনিসুল হককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে সেই বই তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে এসে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আনিসুল হকের ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠিয়েছেন মো. সাখাওয়াত হোসেন। মো. সাখাওয়াত হোসেনের আইনজীবী লিগ্যাল সলিউসন চেম্বার (এলএসসি) এর স্বত্ত্বাধিকারী বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আল মামুন রাসেল এর মাধ্যমে এই নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
নোটিশে ভবিষ্যতে এমন কোনো বই লিখে তা প্রকাশ করা এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার ও প্রকাশ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, লেখক আনিসুল হক তার লিখিত ‘গদ্যকার্টুন’ নাকম বইতে ‘ছহি রাজাকারনামা’ একটি অধ্যায় রাখেন। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মুসলামের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরআন আর বিভিন্ন সুরার আয়াতের অর্থ সরাসরি বিদ্রুপাত্মক করেছেন উক্ত লেখক এবং উক্ত রচনায় পবিত্র কোরআনের আয়াতের অর্থ বিকৃত করে ব্যঙ্গাত্মক অর্থ দিয়েছেন যেমন, পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে- ‘সমস্ত প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর’। লেখক উক্ত রচনায় লিখেছেন, ‘সমস্ত প্রশংসা রাজাকারগণের’। সূরা ফাতেহার আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই।’ আনিসুল হক উক্ত আয়াতকে ব্যঙ্গ ও বিকৃত করে লিখেছেন, ‘আর তোমরা রাজাকারের প্রশংসা করো, আর রাজাকারদের সাহায্য প্রার্থনা করো।’
নোটিশে আরো বলা হয়, দেশের ৯০ শতাংশ মুসলিমদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করার মানসে মুসলিম জাতির ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ করে আয়াতের অর্থকে বিকৃত করে আনিসুল হকের রচিত ও প্রকাশিত গদ্যকার্টুন বইয়ের ‘ছহি রাজাকারনামা’ রচনায় মুসলিম জাতিকে কটূক্তি করে পবিত্র কোরআনকে অবমাননা করে গোটা মুসলিম জাতির অনুভুতিতে কঠোর আঘাত করা হয়েছে। যেখানে লেখক এবং প্রকাশক উক্ত রচনায় পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলোকে বিকৃত না করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারতো, কিন্তু লেখক এবং প্রকাশক তা না করে, দেশের বৃহত্তর গোষ্ঠীকে হেয় করে পবিত্র গ্রন্থকে অবমাননা করে গোটা জাতির অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য উক্তরূপভাবে রচিত ও প্রকাশিত বইটি প্রচার ও প্রসার করেছে।
লিগ্যাল নোটিশে উক্ত বইটির প্রচার প্রশারকে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯৫, ২৯৫ক ও ৫০০ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন এ আইনজীবী।
মহাগ্রন্থ আল কোরআন অসংখ্য মুসলিমের আবেগের জায়গা। সেই আবেগের প্রতি আনিসুল হক এবং তার প্রকাশক খুব একটা যত্নশীল হননি বরং তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃতি ঘটিয়ে চলেছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।