বান্দরবানে পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ম্রোদের অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু পাহাড়ের অন্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় তারা খুবই অনগ্রসর। বেশির ভাগই লিখতে ও পড়তে পারে না। তাদের জন্য বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী ম্রো ভাষায় লিখেছেন ইয়াংঙান ম্রো।
তিনি বলেন, এখনো অনেক ম্রো আছেন যাঁরা বাংলা লেখা দূরে থাক, পড়তেও পারেন না। অথচ তাঁরা ম্রো মাতৃভাষা পড়তে পারেন। মূলত তাঁদের জন্যই বইটি লেখা।
পিছিয়ে পড়া এই নৃগোষ্ঠীর অনেক প্রথমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইয়াংঙানের নাম। ম্রো ভাষার প্রথম অভিধান লিখেছেন তিনি। লিখেছেন নিজ ভাষার প্রথম ব্যাকরণও। ম্রো ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বইটিও তাঁর লেখা। পাহাড়চূড়ায় পাঠাগারও গড়েছেন। গত বছর লিখেছিলেন বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষার প্রথম অভিধান ‘মিটচ্য তখক’।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকে দুর্গম পাহাড়ে যে আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন ইয়াংঙান, তা আজও জ্বলছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ ম্রো ভাষায় লিখিত মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী। মম্রো ভাষায় বইটির নাম ‘নমমো তসেন কিয়াক মি’।
হাইস্কুলে পড়ার সময় ইয়াংঙানকে বীরশ্রেষ্ঠদের বীরত্বগাথা শুনিয়েছিলেন নিত্য রঞ্জন দাস। ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তিনি। গতকাল রবিবার বান্দরবানের একটি রেস্তোরাঁয় বইটির মোড়ক উন্মোচনও করেছেন সেই নিত্য রঞ্জন দাস। পাশাপাশি ম্রো নৃগোষ্ঠীর ক্রামা ধর্মের প্রবর্তক মেনলে ম্রোর আঁকা দুর্লভ ছবির অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে।
প্রায় আট বছরের চেষ্টায় বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী লিখতে সক্ষম হয়েছেন ইয়াংঙান ম্রো। তিনি বলেন, এখনো অনেক ম্রো আছেন যাঁরা বাংলা লেখা দূরে থাক, পড়তেও পারেন না। অথচ তাঁরা ম্রো মাতৃভাষা পড়তে পারেন। মূলত তাঁদের জন্যই বইটি লেখা। চেষ্টা করব যেসব ম্রো ছেলেমেয়ে বাংলা না জানায় বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী পড়তে পারে না, সেসব ছেলেমেয়ের হাতে এই বই পৌঁছে দিতে। এতে করে তারা বীরশ্রেষ্ঠদের সম্পর্কে জানতে পারবে, জানবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।