সিলেটে আ.লীগ-ছাত্রলীগের ২২ নেতাকর্মীর আত্মসমর্পণ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় শপিং সিটিতে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ২২ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই ঘটনায় ১৬ জনকে জামিন ও ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত ১৬ জনকে জামিন ও ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক ধ্রুব জ্যোতি পাল। সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আবুল হাসনাত বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জামিন নামঞ্জুর হওয়া নেতাকর্মীরা হলেন বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতিরগাঁও গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ও উপজেলা যুবলীগ নেতা রাজন আহমদ অপু, জানাইয়া (মশুল্লা) গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন, মুফতিরগাঁও গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন মামুন, কারিকোনা (দুর্গাপুর) গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ফারাবী ইমন ইসলাম, জানাইয়া (মশুল্লা) গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ আহমদ রিপন এবং জানাইয়া (মশুল্লা) গ্রামের মৃত সমর আলীর ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কয়েছ আহমদ।

মামলায় জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বনাথ জানাইয়া (মশুল্লা) গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে ও উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাজন মিয়া, একই গ্রামের সমুজ আলীর ছেলে ও যুবলীগ নেতা নাসির মিয়া, সফিক মিয়ার ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা কামরান আহমদ, আব্দুল হকের ছেলে ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ইসলাম আহমদ, সমুজ মিয়ার ছেলে আবুল মিয়া, এলাই ওরফে এলায়ের ছেলে জাকির মিয়া, হাজী রইছ আলীর ছেলে আফিজ আলী, আজফর আলীর ছেলে ও যুবলীগ নেতা জমির আলী, সরুয়ালা গ্রামের আজিজুলের ছেলে নাহিদ আহমদ, শ্রীধরপুর গ্রামের রুকন আলীর ছেলে ও সিলেট ল’কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুল বাতিন, একই গ্রামের শাহজাহান সিরাজের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা রেজা মিয়া, বিশ্বনাথ নতুন বাজারের বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা হেলাল আহমদ, কামালপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল আলী, বিশ্বনাথ নতুন বাজারের বাসিন্দা ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, খাইয়াখাইর গ্রামের নিরেশ বর্ধনের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা মিল্টন বর্ধন ও দৌলতপুর গ্রামের আলী আকবর মিলনের ছেলে ইমরান আহমদ।

শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী (সুহেল) ও আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মিনহাজ গাজি ও অ্যাডভোকেট মাহমুফুর রহমান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী (সুহেল) জানান, মামলায় আত্মসমর্পণ করা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ২২ নেতাকর্মী জামিন চাইলে আদালত ১৬ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় আগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও ৪ জন জামিনে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরুধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট সিলেটের বিশ্বনাথের আল-হেরা শপিং সিটিতে ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগে চলতি বছরের ১৮ আগস্ট মামলা করেন আল-হেরা শপিং সিটির চেয়ারম্যান ছাদেকুর রহমান। দায়েরকৃত মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৮৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে তিনি আসামি করেন। আর অজ্ঞাতনামা আসামি করেন ৫০-৬০ জনকে।

  • আ.লীগ-ছাত্রলীগ
  • আত্মসমর্পণ
  • নেতাকর্মী
  • সিলেট
  • #