বিভিন্ন অভিযোগে ফের আলোচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিনা

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম আবারও আলোচনায় এসেছেন। একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের মতো অভিযোগে তিনি আগেও সমালোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা হাসানুর রশীদকে অফিসকক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবারও সেলিনা আলোচনায় আসেন।

বিভিন্ন অভিযোগে ফের আলোচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিনা

যৌন হয়রানি, ধূমপান, বিয়ে, সমকামিতা, বা মামলার আসামি হিসেবে আলোচিত  তিনি। অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে সেলিনার অনৈতিক সব কর্মকাণ্ড। সুন্দরী তাই পুরুষদের প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে নেন খুব কাছে। পরে মোটা অংকের দেনমোহরে করেন বিয়ে। হাতিয়ে নেন নগদ টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান সম্পদ। হাতানোর পরে দেনমোহরের টাকা আদায় করে ডিভোর্স দেন স্বামীকে। অসংখ্য পুরুষকে ব্লাকমেইলিং করে করেছে সর্বহারা।

বিভিন্ন অভিযোগে ফের আলোচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিনা

হাসানুর রশীদ অভিযোগ করেন, বরিশালে কর্মরত থাকাকালীন অফিসার্স ক্লাবে ব্যাডমিন্টন খেলতে গিয়ে সেলিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। প্রথমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে সেলিনা আত্মহত্যার হুমকি দেন এবং পরে দাবি করেন তাঁর গর্ভে সন্তান আছে। এভাবে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে অবশেষে তিনি ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয় আরেক দফা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

হাসানুর জানান, তাঁকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, আর্থিক চাপ দেওয়া হয় এবং প্রতিনিয়ত জানাতে বাধ্য করা হতো কার সঙ্গে কোথায় কথা বলছেন। ১৯ জুন রুপাতলীর বাসায় এবং ৩ জুলাই লালমনিরহাট অফিসকক্ষে প্রকাশ্য মারধরের শিকার হন তিনি। অবশেষে ৩১ জুলাই ডিভোর্স দেওয়ার পর ১ আগস্ট তাঁর বাসায় গিয়ে হামলা চালানো হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করেন। ৬ আগস্ট তিনি লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে তিনি ভীতিকর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযোগে ফের আলোচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিনা

এটি সেলিনার বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ নয়। ৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পরিচয়ের পর তাঁকে জোরপূর্বক সম্পর্কে জড়িয়ে ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে। প্রায় ১০ মাস ধরে নিয়মিত অর্থ সহায়তাও দিতে বাধ্য হয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, সেলিনা একজন সুন্দরী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের কারণে পুরুষরা প্রথমে গলে যায়। পুরুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে পরে সেলিনা সেসব পুরুষদের ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতানোসহ সম্মান নষ্ট করে।

তিনি জানিয়েছেন, সেলিনার ডোপটেস্ট করলেই প্রমাণ হবে সে একজন মাদকাসক্ত । তার বাসার ফ্রিজে সব সময় দেশি ও বিদেশি মদ থাকে। রয়েছে নেশা ও পান করার অভিযোগও।

একই ব্যাচের আরেকজন শিক্ষা ক্যাডার হাবিব বলেন, সেলিনার সাথে পূর্বপরিচয় ছিল। পরে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু বিয়ের পর সেলিনার বেপরোয়া আচরণের কারণে ডিভোর্স হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে ৩১তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসের কাছ থেকে। তিনি জানান, অফিসার্স ক্লাবে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় সেলিনার সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথমে নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দিয়ে স্বামী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম সম্রাটের নাম উল্লেখ করতেন সেলিনা। পরে তিনি ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং কিছু ছবি তুলেন। হঠাৎ সেলিনা জানান, স্বামী তাঁকে ডিভোর্স দিয়েছে এবং ছবি দেখিয়ে হুমকি দেন যে স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও ঊ র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবেন। এতে সম্মানহানি ও চাকরিজীবন বিপন্ন হওয়ার ভয়ে তিনি মানসিক চাপে পড়েন। বাধ্য হয়ে স্থান পরিবর্তন করতে হয়। পরে মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করে। তিনি বলেন, আমি একা নই, অনেকেই একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন।

সেলিনা প্রথমে বিয়ে করেন মির্জাগঞ্জ উপজেলার হাবিবুর রহমানকে। এক বছর যেতে না যেতেই সেলিনা এক এক করে তার স্বামী হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজনদের আসামি করে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালে হাবিবুর রহমানের সাথে বিয়ে ভেঙে যায়। স্ত্রী কর্তৃক মামলার আসামি হওয়ায় হাবিবুর রহমান বিসিএসে চুড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যোগদান করতে পারেননি। হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আল্লাহ আমাকে সেলিনার খপ্পর থেকে বাঁচিয়েছেন এটাই শুকরিয়া। আমি একটি আজাব থেকে মুক্তি পেয়েছি।

বিভিন্ন অভিযোগে ফের আলোচনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিনা

এর আগেও সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ মার্চ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি একটি মুচলেকায় স্বীকার করেন যে ১৫ মার্চ রাতে শিক্ষার্থীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। সেখানে তিনি অনুতপ্ত উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ঘটনার পরও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরনবী বলেন, লালমনিরহাট জেলা কালচার কর্মকর্তার দায়ের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

বেপরোয়া চালচলন, একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত সেলিনা বেগমকে ঘিরে তুমুল আলোচনা চলছে। সচেতনমহলের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ একইভাবে প্রতারণা ও পুরুষ নির্যাতনের শিকার না হন।

সেলিনা বেগম ২০১৮ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মনিরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ তুলে আলোচনায় আসেন। অভিযোগ করেছিলেন যে মনিরুল যৌন হয়রানিসহ তাকে  ঢাকা যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সেলিনা তখন লিখিত অভিযোগও দিয়েছিল ভিসির নিকট। মনিরুল তখন বিষয়টিকে মিথ্যা ও ব্লাকমেইলিংয়ের কথা বলেছিলেন। মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর করতে না পেরে পিছু হঁটেন সেলিনা বেগম।

সেলিনার অনৈতিক ও অপকর্মের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এ প্রতিবেদকের হাতে । প্রতারিত ও ব্লাকমেইলিংয়ের শিকার ভুক্তভুগীরা সেলিনার সাথে পুরুষদের সম্পর্ক গড়ার থেকে সাবধান করেছেন।

সেলিনার বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীর কমলচন্দ্র হাওলাদার বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছিল। যার মামলা নম্বর -১/১৭।

সেলিনা বেগমের বক্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • অভিযোগ
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • সেলিনা বেগম
  • #