বরিশালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়ন স্থগিতসহ সংসদীয় ছয়টি আসনে মনোনয়ন বাতিল ও ১০ জনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
মনোনয়ন বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে শনিবার তিনটি আসনের মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে তিনটি আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং আরও দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
সূত্রমতে, মনোনয়নপত্র বাইয়ের দ্বিতীয়দিন শনিবার বরিশাল-১ ( গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনের চারজন প্রার্থীর মনোয়নপত্র বৈধ ঘোষণা এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে বৈধ ঘোষনা করা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-বিএনপি মনোনীত জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান, জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের আয়কর বিষয়ক সমস্যা থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া ও উজিরপুর) আসনে চারজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে একজনের এবং স্থগিত হয়েছে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন। এ আসনে বাসদের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী নেছার উদ্দিন, রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের মনোনয়নপত্রে দলীয় অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তা অবৈধ বা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তিনশ’ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর আয়কর বিষয় সমস্যা থাকায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। প্রার্থী সাহেব আলীর হোল্ডিং ট্যাক্স বিষয় সমস্যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির এমএ জলিলের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল হকের তিনশ’ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বরিশাল-৩ (মুলাদী ও বাবুগঞ্জ) আসনের চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বাতিল হয়েছে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন, দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিরাজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচএম ফারদিন এবং এবি পার্টির ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার (ফুয়াদ) মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসের দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা এবং তিনশ’ টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকারনামা না থাকা। ফখরুল আহসানের অঙ্গীকারনামা না থাকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু জেলহাজতে এবং দ্বৈত নাগরিকতা থাকার অভিযোগের কারণে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাসদ মনোনীত প্রার্থী আজিমুল হাসান জিহাদের তিনশ’ টাকার স্ট্যাম্পে দলীয় প্রধানের অঙ্গীকারনামা না থাকার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগের দিন শুক্রবার প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রথমদিন বরিশাল জেলার তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাকি ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা পুনরায় আপিল করতে পারবেন। আর যাদের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই কওে রোববার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।