ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক

:
প্রকাশ: ১ দিন আগে

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্ডা, আরাগওয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দেশজুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন এ হামলাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বাজে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক

ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নতুন একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘ইউএসএস ইও জিমার বোর্ডে নিকোলাস মাদুরো’। এর আগে এই জাহাজটির কথাই তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন। ট্রাম্প বলেন এটিতে করেই ভেনেজুয়েলার নেতাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরা একজন ব্যক্তি, যাকে মাদুরো বলে মনে হচ্ছে। চোখে আই-মাস্ক, কানে হেডফোন পরে আছেন।

এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে করে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে বলে শনিবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী মার্কিন জাহাজ ইউএসএস আইয়ো জিমায় নিউইয়র্কের পথে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে তাদের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুন্দর একটি ফ্লাইটে গেছেন- আমি নিশ্চিত তারা এটি উপভোগ করেছেন। তবে তারা অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এটা মনে রাখতে হবে।’

দেশটির সরকারি এক বিবৃতিতে এই হামলাকে তার দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর বিজয়কে যেসব দেশ স্বীকৃতি দেয়নি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যে অন্যতম। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেছে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চেয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, রাজধানী কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তাদের বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একে তারা ‘চলমান সামরিক তৎপরতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মার্কিন সিভিল এভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএর এই বিধিনিষেধ জারির পরই কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

শনিবার রাতে এ বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়ে সিএনএনের একদল সাংবাদিক বলেছেন, ঘটনার পর শহরের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সংস্থার সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, ‘একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সেটির প্রভাবে আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।’ কারাকাসে অবস্থানরত সিএনএনের সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের পর আকাশে বিমানের শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে বিস্ফোরণগুলোর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

বিবিসি লিখেছে, এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণটি হয়। বিস্ফোরণের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় গিল পিন্টো জানান, এ বিষয়ে জাতিসংঘে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের শক্তির বিরুদ্ধে কোনো কাপুরুষোচিত হামলাই টিকে থাকতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত জনগণই বিজয়ী হবে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ভিটিভি ভেনেজুয়েলায় দেয়া এক অডিও বার্তায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির অবস্থান অজানা বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস। তিনি জানিয়েছেন, নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন- সে সম্পর্কে সরকারের কোনো ধারণা নেই।

  • আটক
  • প্রেসিডেন্ট মাদুরো
  • ভেনেজুয়েলা
  • মার্কিন
  • হামলা
  • #