প্রতীকী ছবি
কালীগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে (৪৪) ধর্ষণ ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হাসান (৪৫) কালীগঞ্জ পৌরসভার একটি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী নারী তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একই গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। গত শনিবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এজাহার ও ভুক্তভোগী নারী সূত্রে জানা গেছে, গত আড়াই বছর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের নদীপাড়ার অভিযুক্ত শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে দুইতলা বাড়িসহ ৩শতক জমি ২০ লাখ টাকায় কেনে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের খেদা পাড়া গ্রামের মৃত নিখিল ঘোষের স্ত্রী। এরপর ওই নারীর ওপর শাহিনের কুনজর পড়ে, তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাবও দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ভাবে হেনাস্তা করার পায়তারা চালিয়ে আসছিল শাহিন।
এর মধ্যে গত শনিবার সন্ধ্যায় বিধবার গ্রাম থেকে দুই আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসে। সে সময় শাহিন ও তার সহযোগী হাসান তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরপর দুইজন ধর্ষণ করে। তারা ওই নারীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই আত্মীয়কে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। ধর্ষণের পর লোক জানাজানি করতে নিষেধ করলে তিনি চিৎকার শুরু করে। ওই সময় শাহিন ও তার সহযোগী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিধবা নারীকে গাছের সাথে বেঁধে চুল কেটে দিয়ে ভিডিও করে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘শাহীনের ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়িসহ জমি কেনার পর থেকেই আমার পিছু লাগে সে। এখানে আসার পর থেকেই আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় আমার কাছে টাকাও দাবি করেছে শাহীন। শনিবার সন্ধ্যার পর আমি ও আমার ছেলে বাড়িতে ছিলাম। ওই দিন আমার বাড়িতে দুজন আত্মীয় আসে। কুকর্মের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে আত্মীয়দের একটি কক্ষে আটকে রেখে আরেকটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে আমাকে প্রথমে শাহীন ও পরে হাসান ধর্ষণ করে। পরে ঘরের বাইরে বের করে আত্মীয়দেরসহ আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।’
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, আমরা ভুক্তভোগী নারীকে থানায় ডেকে এনে এজাহার নিয়েছি। তদন্ত করে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।