নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতার বাবার বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কদমীরচর এলাকার কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। কাশেম আলীর ছেলে মোবারক হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব।
উদ্ধার অস্ত্র ও সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি শটগানের কার্তুজ, ৮টি ককটেল, ৩৮৮টি রামদা, সাতটি চাপাতি, একটি বড় ছোরা, ছয়টি ছোট ছোরা, ১৩টি দা, দুটি কুড়াল, ছয়টি হকিস্টিক, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বড় টর্চলাইট, একটি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার যন্ত্র এবং নগদ ১০ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
আটক পাঁচজন হলেন মোহাম্মদ স্বপন, পারভেজ, মতিন, জাকির ও রিংকু মিয়া।
পুলিশ সূত্রে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর, মধ্যারচর ও কদমীরচরসহ একাধিক এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সন্দেহভাজনদের বাড়িতে তল্লাশি চালান। পরে কাশেম আলীর বাড়ি থেকে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযান শেষে বিকালে কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ারচর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সকাল থেকে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য ও থানা পুলিশের ১০ সদস্যকে নিয়ে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাত ও অস্ত্রধারীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, কদমীরচর এলাকার কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মূলত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। আর কাশেম আলীর ছেলে মোবারক হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব। এ ঘটনায় আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে আটকদের মধ্যে কেউ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেই বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় যদি আরও কারও সংশ্লিষ্টতা থাকে, তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।