নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিয়া উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকা চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চানন্দী ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী করিম বাজার-দরবেশ বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে এনসিপির এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সন্ধ্যার পর এনসিপির ওই নেতা ও তার সহযোগীরা দরবেশ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, চানন্দী ইউনিয়নের নদীর তীরে করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালু ও পাথর বিক্রি করছিল স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রবি আলম শান্তসহ কয়েকজন।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির সশস্ত্র লোকজন এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, সংঘর্ষের সময় এনসিপির অন্তত ৮টি মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, দরবেশ বাজার এলাকার বালু ব্যবসায়ী জাকের ব্যাপারী ও ইঞ্জিনিয়ার তানবিরের লোকজন স্থানীয়দের দাবির মুখে বালু পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত করছিল। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাটি বিক্রি করছে এমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ায়।
বিএনপির অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে এনসিপি সমর্থিত লোকজন দরবেশ বাজার এলাকায় সড়কের বিভিন্ন মুরুব্বিদের ওপর মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয় জনগণ উত্তেজিত হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমানে এনসিপি নেতা নূর আলম রিপনের নেতৃত্বে এনসিপির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতা সারওয়ার ও প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারুকে আহত করে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : ইত্তেফাক