ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে রোববার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ‘শুটার’ জিনাত, হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী বিল্লাল হোসেন রয়েছেন। গ্রেপ্তার আব্দুল কাদির আসামিদের পালাতে সহায়তা করেন। আর রিয়াজ ঘটনাস্থল রেকি করেছিলেন।
মুছাব্বির হত্যার পেছনে প্রাথমিকভাবে ‘ব্যবসায়িক বিরোধ’ থাকার ধারণা করলেও কারওয়ানবাজার এলাকার চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক কারণগুলোও খতিয়ে দেখার কথা বলেছে ডিবি।
বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভেনিউতে হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে গুলি করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকেই ডিবির বেশ কয়েকটি টিম আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও মোটিভ জানতে কাজ শুরু করে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ঘটনার সময় আশেপাশের ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে আমরা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হই। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
তাদের কাছ থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বরপ্লেট বিহীন বাইক ও নগদ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা কথা বলছে ডিবি।
গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা ‘স্বীকার করেছে’ জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ পরবর্তী তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিক অবস্থায় আমরা হত্যাকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করেছি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার করতে পারিনি। আমরা এটা তদন্ত করছি। এর অবশ্যই মোটিভ আছে বা এর নেপথ্যে যদি কেউ থাকে, তাদেরকেও খুঁজে বের করব।
গ্রেপ্তার দুজনের কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এবং সেখানকার রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে ‘ওঠাবসা আছে’ বলে জানতে পারার কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল। ঘটনায় রহিম নামে আরেকজন ‘শুটার’ এখনো পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এদিন তেজগাঁও থানায় মামলা করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে মুছাব্বির ‘জীবননাশের হুমকি পাচ্ছিলেন’ বলে পুলিশকে জানিয়েছেন সুরাইয়া।