গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় অসুস্থ শ্রমিকদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে টঙ্গী বিসিক এলাকার এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ ও ব্রাভো এ্যাপারেলস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই আছেন। তাদের বেশির ভাগের বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ দেখা গেছে।
ব্রাভো এ্যাপারেলসের শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে কাজ শুরু করেন তারা। এ সময় হঠাৎ করে কারখানার ৫ম তলায় একটা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে শুরু করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে কারখানাটির বিভিন্ন ফ্লোরে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজের শ্রমিকরা জানান, দুই দিন আগে গত সোমবার দুপুরের পর কারখানার বেশকিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গতকালও কারখানাটির কয়েকটি ফ্লোর বন্ধ থাকে। আজ বুধবার সকালে কাজ শুরু করার পর হঠাৎ করে আবারও বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে উভয় কারখানা থেকে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক অসুস্থ শ্রমিককে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে উভয় কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শ্রমিক প্যানিক অ্যাটাকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু শ্রমিক শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতা ভুগছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আাছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।