বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান বৃহস্পতিবার হাউস অব কমন্সে বলেছেন, হিন্দুদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে; তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে; মন্দিরে আগুন দেওয়া হচ্ছে; এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ধরনের পরিণতির শিকার হচ্ছে।
আগামী মাসে ‘তথাকথিত মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ হওয়ার কথা রয়েছে মন্তব্য করে বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, বাংলাদেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে সেই নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যদিও জনমত জরিপে তাদের সমর্থন প্রায় ৩০ শতাংশ। একই সঙ্গে ইসলামি উগ্রপন্থিরা একটি গণভোটের আহ্বান জানিয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
এই ব্রিটিশ এমপি হাউজ অব কমন্সে জানতে চান, বাংলাদেশের নির্বাচন যাতে মুক্ত, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার কোনো বিবৃতি দেবেন কি না।
জবাবে হাউস অব কমন্সের নেতা অ্যালান ক্যাম্পবেল বলেন, আমরা মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছি এবং শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছি। মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষার বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার রয়েছে এবং আমরা সে বিষয়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সামনেও জোর দিয়ে তুলে ধরছি। ধর্মীয় বা জাতিগত-যে কোনো ধরনের সহিংসতার আমরা নিন্দা জানাই এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে আহ্বান জানাই।
বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, সেজন্য সম্প্রতি বিবৃতি দেন বব ব্ল্যাকম্যানসহ চার ব্রিটিশ এমপি। তারা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো নির্বাচনকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায় না। নৈতিক বিবেচনাবোধ সম্পন্ন প্রত্যেক মানুষই আশা করেন, এই নির্বাচন একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। তবে তখনই সেটা সম্ভব হবে, যখন নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ।
বিবৃতিদাতা অন্যরা হলেন জিম শ্যানন, জ্যাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল।
সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম