রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ৭ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। শুরুতে ফায়ার সার্ভিস ৩ জন নিহতের তথ্য দিলেও পরে তা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ওই ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা।
ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ওই ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস।
আহতদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে মারা গেছেন জানিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বলেন, ভবনের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন এক পরিবারের।
ওই তিনজন হলেন কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)।
রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বি ও রিশানের মরদেহ আছে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে রোদেলা আক্তার নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ নেওয়া হয়েছে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে।বাকি দুজন হলেন ৫২ বছর বয়সী মো. হারিছ এবং তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে মো. রাহাব। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, ওই বাসায় কীভাবে আগুন লেগেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।