টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগে রায়হান কবির ইমন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও রায়হান কবির ইমনকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে রাখেন অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশরুমে এক নারী চিকিৎসক স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান ৷ তিনি ওই ক্যামেরা নিয়ে বের হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমন ক্যামেরাটি নিতে ধস্তাধস্তি করেন। তিনি ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কলম ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলা হয়। গতকাল রাতেই ওই নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। গত পাঁচ বছর ধরে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে।
সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের পরিচালক।
হাসপাতালের কক্ষে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হলে ইমনসহ পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন অন্যান্য চিকিৎসকরা। পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে ইমনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, এ ঘটনায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইমনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, অভিযুক্ত ইমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।