অপহরণের পর শিশুটিকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন সেই রিকশাচালক : র‌্যাব

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

ঢাকার মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে অপহৃত তিন বছরের শিশুটিকে সেই রিকশাচালক তার নিজ বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অপহরণের খবর ছড়ানোর পর চাঁন মিয়া নামে ওই রিকশাচালককে ঢাকার মগবাজারের ওয়ারলেস গেইট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃহস্পতিবার শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, চাঁন মিয়ার বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। পেশায় তিনি রিকশাচালক, শিশুটির পরিবার তার পূর্বপরিচিতও নয়। ওই মুহূর্তে (মুগদা হাসপাতালের সামনে থেকে) তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নিয়ে চলে যান তিনি।

র‌্যাব বলছে, শিশুটিকে মুগদা হাসপাতালের সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার পর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে গাইবান্ধায় পাঠিয়ে দেন চাঁন মিয়া। তাকে অপহরণের কারণ কী, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া বা সেরকম কোনো কিছুর আলামত পাওয়া যায়নি। পরবর্তী তদন্তে এটি বের হয়ে আসবে। তবে ৪১ বছর বয়সী চাঁন মিয়ার ‘কোনো সন্তান নেই’ বলে তথ্য পেয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

শিশুটিকে উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধা থেকে চাঁন মিয়ার বাবা মো. নূর মোহাম্মদ, মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মৎ কুলসুম বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে মুগদা হাসপাতালের গেইটের বাইরে থেকে শিশুটিকে নিয়ে উধাও হয় এক ব্যাটারির রিকশাচালক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মুগদা থানায় মামলা হয়। ছেলেটির বাবা প্রবাসী, মা-ছেলে ঢাকার সবুজবাগে থাকেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

এর আগে মুগদা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম বলেছিলেন, বুধবার শিশুটির মা ডাক্তার দেখাতে মুগদা হাসপাতালে যান। দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের সামনে থেকে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন। বাচ্চাকে রিকশায় বসিয়ে রেখে পানি কিনতে দোকানে গেলে রিকশাচালক বাচ্চাকে নিয়ে চলে যায়।

শিশুটির মা ফিজিওথেরাপিস্ট সুমাইয়া আক্তার মিলি বলেন, আমি মুগদা হাসপাতালের নিচ থেকে ব্যাটারির রিকশায় উঠে গেইটের বাইরে পানি নিচ্ছিলাম। ও (ছেলে) রিকশার মধ্যে দাঁড়িয়ে খেলছিল। আমি নিতে চাচ্ছিলাম কিন্তু ও নামেনি। রিকশাওয়ালা ভাইটা আবার বলছিল ‘বাচ্চাটা নামতে চাচ্ছে না, থাক। আপনি বিলটা দিয়ে আসেন।

মিলি বলেন, আমি গিয়ে পানির বিলটা দিতে দিতে পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি রিকশা আর বাচ্চা উধাও। কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। আমি সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াইছি। সবাইকে জিজ্ঞেস করছি। কিন্তু একেবারে উধাও।

  • অপহৃত
  • ঢাকা
  • মুগদা
  • শিশু
  • হাসপাতাল
  • #