নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত আদালতের রায় ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন সময়ে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব কর্মকাণ্ড দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি, অসদাচরণ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনানুগত্যের শামিল বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় নিয়ে রিট খারিজের সংবাদ প্রকাশের পর শনি ও রোববার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় দুইদিনের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এরও আগে, দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি-সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, এনসিটির বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়ার উদ্যোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অফিস সময়ের মধ্যে বন্দর ভবন, ফয়ার ও আশপাশের এলাকায় কতিপয় কর্মচারী হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করেন এবং বিরুদ্ধাচরণমূলক বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রচার করেন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন।
দপ্তরাদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী সুস্পষ্ট অসদাচরণ। বিশেষ করে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ ও গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য বা পোস্ট প্রদান প্রবিধানমালার ৩৮ ধারার একাধিক উপধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, এনসিটি সংক্রান্ত রিট মামলার রায়ে সরকারের চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের এখতিয়ারাধীন। এ অবস্থায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কর্মচারীকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আদেশে আরো বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯-এর ৩০ ধারা অনুসরণসহ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে একটি স্মারক জারি করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাপ্তরিক বিষয় প্রকাশ, গোপন নথি প্রচার ও দপ্তরীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
তবে এসব নির্দেশনার পরও এনসিটি ইস্যুতে অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের আচরণকে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯, সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা-১৯ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।