উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুরে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বের হয়ে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে ১১ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি দেয়।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. সিয়ামের অভিযোগ করে বলেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে বিদ্যমান পেশাগত সমস্যা নিরসন’ আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির মাধ্যমে বিএসসি এবং ডিপ্লোমা উভয় প্রকৌশল শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো হয়েছে।
এ ধরনের পদক্ষেপকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড বলে দাবি করছেন কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ব্যানারে নির্বাচন ভবনে স্মারকলিপি দিতে আসা শিক্ষার্থী। তারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও বিএসসি ডিগ্রিধারীদের সমস্যা নিরসনে সরকার গঠিত কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
ঢাকা পলিটেকনিকের তৃতীয় বর্ষের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জিসান হোসেন বলেন, একই দাবিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার যে সুপারিশ করেছে তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তারা আরো কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে। সেগুলো হল-
এক. দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ন্যূনতম শতকরা ৩৩ শতাংশ আসনে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
দুই. আগের মতো তিন বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে আবেদন করার সুযোগ পুনর্বহাল করতে হবে।
তিন. প্রকৌশল খাতের মতো দেশের অন্যান্য সকল সরকারি সংস্থার দশম গ্রেডের পদে, যেখানে ডিগ্রিধারীরা নবম গ্রেডে আবেদন করতে পারেন, সেখানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চার. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পদ দখল করে কোনো প্রকৌশলীকে সাধারণ ক্যাডারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
পাঁচ. যেহেতু ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের ক্রেডিট আওয়ার সমান, সেহেতু পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে উভয়ের জন্য সমতা নিশ্চিত করতে হবে-
যেমন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশলী’ লিখতে হলে ডিগ্রিধারীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ‘ডিগ্রি প্রকৌশলী’ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ছয়. সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রেডিট আওয়ার বিবেচনায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষায় ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।
সাত. দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রকৌশলীদের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মেম্বারশিপ ও কারিকুলাম বিষয়ে আইইবি ও বিএইটিই-এর একচ্ছত্র খবরদারি বন্ধ করে এই দায়িত্ব সরকারকে সরাসরি গ্রহণ করতে হবে।
আট. শিক্ষা কারিকুলামের ক্রেডিট আওয়ারের ভিত্তিতে প্রকৌশল ও সাধারণ সনদের মতো সমতা নির্ধারণ করতে হবে।
নয়. দেশের স্বার্থে আইডিইবি কর্তৃক ঘোষিত সকল যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষাসহ প্রকৌশল খাতের চলমান বৈষম্য নিরসন এবং জাতীয় স্বার্থে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।