ফাইল ছবি
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।
আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি।
এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন।
এরপর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।
এদিকে, বন্দরের অপারেশনাল শ্রমিকদের কাজে কেউ বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা আইনসম্মত স্টেপ নিয়েছি। কেউ যদি অবাধ্য হয়ে আইন নিজের হাতে নিয়ে নেয় তার মানে আমি কি আইন নিজের হাতে নেব? আমি যদি আইন নিজের হাতে নিতাম তার জন্য যদি অন্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো তখন আপনারাই প্রশ্ন করতেন। এ জন্য আমরা কখনোই বেআইনি কিছু করতে পারি না। রাষ্ট্রের আইনকে শ্রদ্ধা করি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, এনসিটি নিয়ে বন্দরকে অস্থিতিশীল করা সহজ। যেহেতু এটা অপারেশনাল বন্দর।একটি গাড়ি থামিয়ে দিলে বন্দর এফেক্টেড হয়। একটা গেট বন্ধ করে দিলে বন্দর এফেক্টেড। জাহাজের পাইলট বোট আটকে দিলে বন্দর এফেক্টেড হয়। এটার ব্যাপারে আপনারা (সাংবাদিক) বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট করেন। আপনারা জনগণের পক্ষে কাজ করেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এনসিটির নেগোসিয়েশন শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে আমরা বলতে পারি না।রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এটা গোয়েন্দা সংস্থা বলতে পারবে।