নাটোরে আগুনে পুড়ে মা-শিশুসন্তানের মৃত্যু

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ দিন আগে

নাটোরের গুরুদাসপুরের ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের দিনমজুর রান্টুর বাড়িতে আগুন লাগে। গভীর রাতে বাড়িতে লাগা আগুনে তার স্ত্রী পুড়ে আতিয়া এবং তার দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান রওজা মনি মারা গেছেন। একইসঙ্গে গুরুত্বর দগ্ধ হয়েছেন বৃদ্ধ শাশুড়ি মনিকা বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত তিনটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া গ্রামের দিনমজুর রান্টুর বাড়িতে আগুন লাগে। এই আগুনে আরও অন্তত ১৮টি ছাগল পুড়ে মারা গেছে। দোকান, গোয়াল এবং শোবার ঘরসহ ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। র।

বিলাপ করতে করতে রান্টু সরকার জানান, তিনিও স্ত্রী সন্তানর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি দৌড়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়েন। মুহুর্তে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রাণভয়ে শিশু সন্তান নিয়ে খাটের নিচে আশ্রয় নেন তার স্ত্রী। নিজে কোনো মতে প্রাণে বাঁচলেও বাঁচানো যায়নি তার স্ত্রী-সন্তানকে।

তিনি জানান, ঘরবাড়ি, স্ত্রী ও দুধের সন্তানকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন। দগ্ধ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে তার মা লড়াই করছেন। সব হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ওহীদুজ্জামান রুবেল বলেন, গুরুত্বর দগ্ধ অবস্থায় মনিকা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওই নারীর শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুড়ে মারা যাওয়া মা মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, শিশুসহ আগুনে পুড়ে মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি বেদনাদায়ক। শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে।

  • আগুন
  • নাটোর
  • মা-শিশুসন্তান
  • মৃত্যু
  • #