৪০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩ : আসক
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে ১৩৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও এক হাজার ১০৫ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং এই সহিংসতায় হতাহত বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা অপরিবর্তিত আছে।
আসক জানায়, জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে (১-১০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক সহিংসতার ৮টি ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোতে মোট ২৬ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়। পরবর্তী ১০ দিনে (১১-২০ জানুয়ারি) মোট সহিংসতার ঘটনা ছিল ১৮টি।
এতে আহত হয় ১৭৬ জন এবং নিহত হয় দুজন। জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে (২১-৩১ জানুয়ারি) তারিখের মধ্যে মোট সহিংসতার ৪৯টি ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় ৪১৪ জন এবং নিহত হয় চারজন। এ ছাড়া চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে (১-১০ ফেব্রুয়ারি) ৫৮টি সহিংসতার ঘটনায় ৪৮৯ জন আহত এবং দুজন নিহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের হয়রানির ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কথা উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে ১১ জন সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৬ জন। আর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে মোট ৪৭ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকার ২১ জন সাংবাদিককে তাদের কর্মস্থল থেকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতার এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ফেব্রুয়ারি মাসেও অপরিবর্তিত আছে। এই ঘটনাগুলোতে হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ, নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনীতির মাঠ ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাংবাদিক আক্রান্তের হারেও বৃদ্ধির প্রবণতা অপরিবর্তিত আছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিক হয়রানির ক্রমাগত বৃদ্ধিতে উদ্বেগ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে আসক।