ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) নামে মহিলা দলের এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফেনী পৌরসভার বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি পৌর শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। মরদেহটি উদ্ধার করেছে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ।
নিহত লিপি সোনাগাজী উপজেলার কাছিম বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে ও আমেরিকাপ্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক এবং পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন। তাঁর ১৩ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে কয়েক দিন আগে মেয়েকে পার্শ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠান তিনি।
বুধবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে স্বজনেরা বাসায় গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে আটকানো। পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, ‘আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম। পাঁচ দিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি। আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল। তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনো ঝামেলা ছিল না। কেন সে এমন করল কিছুই বুঝতে পারছি না।’
জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা বলেন, ‘লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই। সব কর্মসূচিতে সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল। সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি। এটি আত্মহত্যা না-হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না। যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয় কোনো সূত্র পাওয়া যাবে। আমি প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’
ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল। গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।