রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হক বাজারে তার সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
শুক্রবার রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফলাফল পুনর্গণনার আবেদন জমা দেন এমদাদুল হক ভরসা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
হারাগাছ এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, ‘আমি শতভাগ আশাবাদী ছিলাম, জনগণের রায়ে বিজয়ী হবো। কিন্তু ভোটের দিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহায়তায় ফলাফল পরিবর্তন করে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির পরাজিত এই প্রার্থী।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হক বাজারে ভরসার সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তারা হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা গেছে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলে দলে সেখানে জড়ো হন। এমন ঘটনা ঘটেছে ওই আসনের পীরগাছা এলাকাতেও।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাত সাড়ে ১১টায় হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, হাজার হাজার লোক হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এই অবস্থায় পুলিশের পক্ষে কোনো কিছু করার নেই। এ পরিস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।