শেরপুর-১ (সদর) আসনের ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। শনিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ দেওয়ার পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার ভাষ্য, এলাকাবাসী তাকে বলেছেন জামায়াত প্রার্থী জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। শুধু তাই নয়, তারা প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার কিনেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বলেছেন, ভোট দিতে গেলে খবর আছে। সে কারণে ভয়ে ভোট দিতে যাননি অনেক ভোটার।
বাজিতখিলা ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, একটি কেন্দ্রে ৭ ও অন্য একটি কেন্দ্রে ২৭ ভোট পেয়েছে ধানের শীষ। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া সদর আসনের পূর্ব এলাকায় ভোট কাস্ট কম হওয়ার কারণ হিসেবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেখানে শুধু জামায়াতের ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়েছে, তাকে যারা ভোট দেবেন তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই ভোট কাস্ট কম হয়েছে।
ইসি অভিযোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি জানান, তাদের সুরাহা দেখার পর তিনি আদালতে যাবেন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমার সম্মান ক্ষূণ্ন করা হয়েছে। রিজিক টান দেওয়া হয়েছে। জরিপ করলে গোয়েন্দা টিম ও ডিজিএফআইকে পাঠিয়ে দেখুন তারা কীভাবে দাঁড়িপাল্লার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে আমার ভোটারদের ভোট দিতে দেয়নি।’
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ- বার বার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ফোন করলেও ফোন ধরেননি, কেটে দিয়েছেন। ইউএনওকে বলার পর তিনি স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠিয়েছেন। কিন্তু ১০-১৫ মিনিট পর তারা চলে গেলে আবার ওই কেন্দ্রে একই কাজ করেছে প্রতিপক্ষ। তিনি বলেন, সার্ভে করলে দেখা যাবে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। তার ফেসবুকে প্রচুর ফলোয়ার আছে। সারাদেশের মানুষ তার জন্য কাঁদছে। একটা প্রার্থী ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ৫ আগস্টের পরে এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। পুনঃভোটের দাবি জানান তিনি।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের ভাষ্য, এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। উনি (প্রিয়াঙ্কা) কি বলবেন, কি বলবেন না এটা উনার ইচ্ছা।
প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ আমলে না নিয়ে জামায়াত প্রার্থী ও নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১১ ইউনিয়নে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। পৌর এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৬ হাজারের অধিক ভোট পেয়েছেন। তাই তিনি এসব গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, আইনী ব্যবস্থা নিয়ে যদি কেউ ইসিতে যান, সেখানে আমার তো কিছু করার নেই।
সূত্র : সমকাল