ভোলায় যুবলীগের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আগের দিন পেটানো হয় তার ছেলেকে

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ভোলার চরফ্যাশনে আবদুর রহিম (৪৫) নামে যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে শশীভূষণ থানাধীন রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে। তাকে হত্যার আগের দিন তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) জয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত আবদুর রহিম রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক। সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন শশীভূষণ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন। তবে তিনি আবদুর রহিমের হত্যার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের দুই রাতে জোর করে আবদুর রহিমের দুটি খাসি জবাই করে খেয়ে ফেলেন আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সম্রাটসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন। তারা ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের (নয়ন) অনুসারী হিসেবে পরিচিত। খাসি খাওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রথমে আবদুর রহিমের ছেলে আমির হোসেনকে গত শুক্রবার রাতে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাঁর মুখের হাড় ও চোয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। ছেলেকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় আছেন আমির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় গতকাল আবদুর ‘ছাগলখেকোদের’ গালাগাল করলে রাতের বেলা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

আবদুর রহিমের মেয়ে বিবি রহিমা সাংবাদিকদের জানান, গতকাল রাতে তার বাবা কলঘাটা রাস্তার মাথার দোকানে চা পান করতে যান। চা পান করে ১০টার দিকে ফিরছিলেন। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  বাবার হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে বিবি রহিমা আরও বলেন, আমার বাবাকে যারা খুন করেছে, আমরাও তাদের ফাঁসি চাই। আমার বাবার খুনি আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও সম্রাট। ওরা মাদক ব্যবসায়ী।

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, নিহত আবদুর রহিম একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। খাসি খাওয়া ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লোকজন লাশ দাফন করে মামলার প্রস্তুতি নেবেন।

  • কুপিয়ে
  • ভোলা
  • হত্যা
  • #