ছবি : সংগৃহীত
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। দুপুরে সিকৃবির উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষকদের একটি অংশের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলামের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলেন বিএনপিপন্থি সাদা দলের শিক্ষকরা। তবে তাদের পাত্তা না দিয়ে নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভিসি’ দাবি করে উপাচার্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব মানবেন না বলে ঘোষণা দেন। এরপর তিনি তার অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগে চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
নির্বাচনের পর সাদা দলের শিক্ষকরা বারবার উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলতে চাইলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ থেকে বিরত থাকেন। তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন—এমনটা অনুমান থেকে তিনি তার বলয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের জড়ো করে রেখেছিলেন। সাদা দলের শিক্ষকরা সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে বিশেষ করে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে গেলে এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত থাকা একজন শিক্ষককে ঘুষি মারেন উপাচার্য পক্ষের একজন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষ। এ ঘটনায় উপাচার্য ছাড়াও সাদাদলের অধ্যাপক মাহবুবু ইকালসহ অন্তত ৬ শিক্ষক আহত হন। তাদের অভিযোগ মারধরের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিন আহমদ।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, আমাকেও তারা লাথি দিয়েছে, আমাকেও মারধর করেছে। আমরা বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রশ্ন-উত্তর প্রসঙ্গে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে হঠাৎ করেই আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করে ভিসির লোকজন। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত অধ্যাপক মাহবুব ইকবাল বলেন, আমরা অনিয়মনের প্রতিবাদ করতে গেলে ভিসি প্রক্টরের লোকজন আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন। আমার নাক মুখ মেরে ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। তবে এসব অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করেছেন সিকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় আমি এখানে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর যোগদান করি। এর চারদিন পর ২৫ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন এখানে গণ্ডগোল হয়। সেই সূত্রে তৎকালীন প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে অপসারণের দাবি তুলে ছাত্ররা। আন্দোলন চলতে থাকে। পরে ৩০ অক্টোবর প্রক্টর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তী সময়ে আমরা সবার মতামতের ভিত্তিতে সবচেয়ে এফেক্টিভ, অ্যাফিসিয়েন্ট একজনকে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেই। এখন উনাকে (সরে দাঁড়ানো প্রক্টর) কেন আবার পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হলো না, অন্যান্য রেজিষ্ট্রার, অ্যাডভাইজারকে কেন দেওয়া হলো না এই দাবি নিয়ে তারা এসেছিলেন।
উপাচার্য অভিযোগ করে বলেন, তাদের আরেকটি বড় দাবি হলো অন্তবর্তী সরকারের আমলের উপাচার্য। এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। এখন এখানে তারা নেতৃত্ব দেবেন। নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে তিনি বলেন, অথচ আমি বিএনপির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। কিন্তু তারা নাকি ১৭ বছর অভুক্ত ছিল। কোনো যোগ্যতা ছাড়াই তাদের নিয়োগ দিতে হবে। এটা নিয়ে তারা হৈচৈ শুরু করে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপদেষ্টা, প্রক্টর, রেজিস্টার ওয়েটিং রুমে ছিলেন। তারা হৈচৈ শুনে চলে আসে এবং তারা প্রতিরোধ করাতে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং ৪ জন শিক্ষক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আমি ঠেকাতে গিয়ে দুই আঙুলে আঘাত পাই। দুইজন কর্মচারীও আহত হন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা আইনের আশ্রয় নেব। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গায়ে হাত দেওয়া এটা তো আমরা সহজে ছাড়তে পারি না। আমরা আইনের আশ্রয় নেব। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।