হবিগঞ্জে সিলিকা বালু লুটপাটকারীদের তালিকা করার নির্দেশ হাইকোর্টের
হবিগঞ্জে সিলিকা বালুমহাল থেকে আইনবহির্ভূত এবং নির্বিচার বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মূল্যায়ন করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
রুলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০১৩ সালের ২৭ জুনের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট এবং বাহুবল উপজেলার সিলিকা বালু খনি থেকে অবৈধ, অননুমোদিত ও নির্বিচার বালু উত্তোলন প্রতিরোধে বিবাদীদের ব্যর্থতা সংবিধান এবং দেশে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার পরিপন্থি হওয়ায় কেন তা আইনত কর্তৃত্ববিহীন, অবৈধ এবং জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন।
রুল জারির পাশাপাশি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এর মহাপরিচালক; হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক; পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলার উপপরিচালক; মাধবপুর, চুনারুঘাট এবং বাহুবল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে উল্লেখিত খনি থেকে সিলিকা বালুর অবৈধ, অননুমোদিত এবং নির্বিচার বালু উত্তোলনের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে উল্লেখিত খনি থেকে সিলিকা বালুর অবৈধ, অননুমোদিত এবং নির্বিচার বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মূল্যায়নপূর্বক বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণ আরোপ এবং আদায়ের নির্দেশ প্রদান করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে উপরোক্ত আদেশ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বেলা জানায়, ২০১৩ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলায় মোট ২৩টি সিলিকা বালুমহাল রয়েছে যার অধিকাংশই চা বাগানের ভেতরে অবস্থিত।
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কর্তৃক গত বছরের ১৬ জানুয়ারি স্মারকবাহী পত্রে অনুযায়ী ১৪৩১-৪৩২ বাংলা সনে উল্লেখিত বালুমহালগুলো ইজারা প্রদান করা হয়নি। সরকার ঘোষিত বালুমহালগুলো ইজারা প্রদান না করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও নজরদারির অভাবে উল্লেখিত বালুমহাল ও বিভিন্ন চা বাগানের ছড়া, সংরক্ষিত এলাকাসহ যত্রতত্র থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে মর্মে দেশের একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে চুনারুঘাট উপজেলার ৩নং দেওরগাছ ইউনিয়নের সুতাং নদীর চাকলাপুঞ্জি, রামগঙ্গা, চন্ডী ছড়া, চান্দপুর বস্তি, বনগাও; ৪নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের দেউন্দি চা বাগানের বদরগাজী ছড়া; ৮নং সাটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দারাগাও চা বাগানের ছড়া; শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি মৌজার রঘুনন্দন পাহাড়ের গাধাছড়া ও খাসবাড়ি টিলা, পঞ্চাশ, ডেউয়াতলী, সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের দেওছড়া ও ইছালিয়া ছড়া; মাধবপুর উপজেলার ৬নং শাহাজানপুর ইউনিয়নের বনগাও বান্ডুরা, ইটাখোলা ছড়া; বাহুবল উপজেলার ২নং পুটিজুড়ি ইউনিয়নের বৃন্দাবন চা বাগানের কালী ছড়া এবং ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের রসিদপুর চা বাগান স্থানসমূহ থেকে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী উল্লেখিত এলাকাসমূহে বালু উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন যার বিকট শব্দে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এবং ছড়ার আশেপাশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
অবৈধ ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙন দেখা দিয়েছে পাহাড়ের পাশের একাধিক টিলায় যা যেকোনো সময়ে ধসে পড়ে প্রাণহানিসহ অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করতে পারে।
বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী, তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট এস. হাসানুল বান্না। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মাদ শফিকুর রহমান।