ছবি : আলী আহমদ
এবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন কবি, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক, গবেষক, প্রাবন্ধিকসহ আট বিশিষ্টজন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহন রায়হান; কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস; প্রবন্ধ/গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক; শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ; অনুবাদে আলী আহমদ; গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান; বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসান।
যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তারা সবাই নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে নিজ নিজ ভুবনে দীপ্তিময়, জাতির মনন ও মানসে রসদ দিয়ে যাচ্ছেন নির্মোহভাবে অবলীলায়।
অনুবাদে যে বিশিষ্টজন এবার বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন- এ পুরস্কার তার যাপিত জীবনের এক ক্ষুদ্র পাওয়া। সমকালীন বিশ্বসাহিত্য বাংলাভাষাভাষী পাঠকের কাছে সাবলিল ভাষায় ও নান্দনিক সৌন্দের্যে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আলী আহমদ অহর্নিশ সাধনা করেছেন। এ পুরস্কারপ্রাপ্তী তার সাহিত্যসাধনার বিশালতায় ক্ষুদ্র অর্জন। তার চিন্তাদর্শন, নান্দনিক ভুবন ও সাহিত্যসাধনার ব্যাপ্তি আকারে আরও বৃহৎ, ভাবনায় আরও গভীর, ভাষায় আরও প্রাঞ্জল, সময় ও কালে আরও টেকসই বটে।
জীবন-জীবিকায় আলী আহমদের সরকারি চাকরির বহমানতা ছিল বটে, তবে রূপ-রস আস্বাদনে শিল্প-সাহিত্যের দেশজ ভুবন অতিক্রম করে বৈশ্বিক ভুবনের মহানেশায় মজেছেন তিনি। রবি ঠাকুরের প্রচণ্ড অনুরাগী এ মানুষটি ইংরেজি সাহিত্য ও ভাষায় অসাধারণ দখল তার, শুধুই ব্যক্তি উদ্যোগে, মানসের ক্ষুধা নিবারণের নেশায়। তিনি বিশ্বসাহিত্যের মহারথীদের নিয়ে কালযাপন করেছেন এবং সিদ্ধহস্তে অনুবাদ করে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের তৃপ্ত করেছেন।
আলী আহমদের উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থগুলো হল- নোবেলজয়ীদের ছোটগল্প, বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায়, বারো অভিযাত্রীর কাহিনী, শিকার ও অন্যান্য গল্প, পাস্কুয়াল দুয়ার্তের পরিবার, খোঁজ, স্বপ্নগিরি,, বিশ্বসেরা ছোটগল্প, চোর ও সারমেয় সমাচার, প্রেম ও অন্যান্য দানব, হে সুন্দর হে বিষণ্ণতা, আমার সাক্ষ্য ও পাখির গান।
প্রসঙ্গত, আলী আহমদের অনুবাদকৃত বই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।