৪০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৩ : আসক
একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ নেওয়া এবং জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশনার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘শোন-অ্যারেস্ট’ বা অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ পুলিশ–এর রাজশাহী রেঞ্জ পর্যায়ের একটি লিখিত নির্দেশনায় জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ‘দলকে শক্তিশালী বা সংগঠিত করার সক্ষমতা’ বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর কথা বলা হয়েছে।
আসক বলেছে, এ ধরনের নির্দেশনা আইনের শাসন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে পূর্বধারণা বা পরিকল্পিতভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে পুনরায় গ্রেফতার আইনি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে সংস্থাটি প্রশ্ন তোলে, পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের এখতিয়ার ও জবাবদিহিতার ভিত্তি কী—তা স্পষ্ট নয়। নবনির্বাচিত সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সর্বস্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের সঙ্গে এমন পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।
আসক মনে করে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ নাগরিকের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশ, এ সংক্রান্ত সব আদেশ ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
একই সঙ্গে বেআইনি গ্রেফতার, হয়রানি বা ‘শোন-অ্যারেস্ট’-এর মতো চর্চা বন্ধ করে নাগরিকের ন্যায়বিচার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আসক।