বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা, বিএনপির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি ভিকটিম কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে রাখে।

নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজন যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এরপর আজ সকালে পুলিশ সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। নরসিংদীর মাধবদীতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • কিশোরী
  • গ্রেপ্তার
  • বিএনপি নেতা
  • হত্যা
  • #