জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি

: বিশ্বপরিস্থিতি ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দ্রুত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশেরও বেশি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ বড় তেল কোম্পানি, ট্যাংকার মালিক এবং ট্রেডিং হাউজ এই রুট দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহ স্থগিত করেছে।

এনার্জি রিসার্চ প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও আসল প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে। সোমবার নিয়মিত লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরেও চলে যেতে পারে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও আবুধাবির পাইপলাইন ব্যবহার করে কিছু সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও দৈনিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাঁর মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার বেড়ে ৯২ ডলারে ঠেকতে পারে।

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়তি তেল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই পরিমাণ বিশ্ব চাহিদার মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এদিকে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ভারত, চীনসহ এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। গবেষণা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভারত আবারও বড় পরিসরে রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে।

  • জ্বালানি তেল
  • দাম
  • বৃদ্ধি
  • #