কাতারে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, ইউরোপে দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ

: বিশ্বপরিস্তিতি ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরী ও মেসাঈদ শিল্পনগরীতে হামলার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম কোম্পানি কাতারএনার্জি সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধের ফলে ইউরোপের দেশগুলোয় এলএনজির দাম গতকাল সোমবার এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

কাতারএনার্জির বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারএনার্জি সব অংশীদারদের সঙ্গে তার সম্পর্কের মূল্যায়ন করে এবং তাদের সঙ্গে হালনাগাদ তথ্যের বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে এর বেশি কিছু বলেনি কোম্পানিটি। কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে, তাও জানায়নি কাতারএনার্জি।
ইরানের পাল্টা জবাবের জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ইরাকের কুর্দিস্তানে তেল উৎপাদন এবং ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার বলেছে, দেশটির রাস লাফান শিল্পনগরী ও মেসাঈদ শিল্পনগরী লক্ষ্য করে ইরান দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন মেসাঈদে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হেনেছে। আরেকটি রাস লাফান শিল্পনগরে একটি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় উৎপাদন বন্ধ হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে সোমবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, কাতারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের হামলার অবশ্যই জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে কাতার ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোয় গ্যাসের দাম  সোমবার এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইউরোপের বড় বাজার যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে গ্যাসের দাম এক লাফে অনেক খানি বেড়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডভিত্তিক জ্বালানিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেনজির গ্যাস ও এলএনজি গবেষণা ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো ডি অডোয়ার্ডো বলেন, এলএনজি সরবরাহ বিপর্যস্ত হওয়ায় খুব শিগগির এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গ্যাস আমদানি নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইসিই তথ্যমতে, নেদারল্যান্ডসের বেঞ্চমার্কে প্রতি ১০ লাখ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম বেড়ে ১৫ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯৪৮ টাকা) হয়েছে। প্রায় অর্ধেক লিটারের পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ লাগে, সেটাই এক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট। বাজারে ন্যায্যতা ধরে রাখতে এই পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের লেনদেন হয় এই পদ্ধতিতে।

এদিকে সোমবার দিনের শুরুতে এশিয়ায় এলএনজির দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০ লাখ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ৬৮ ডলার।

আল জাজিরা জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার লেনদেন শুরু হতেই গ্যাসের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। তারপর তা আরও বেড়েছে।

  • ইউরোপ
  • উৎপাদন
  • এলএনজি
  • কাতার
  • দাম
  • বন্ধ
  • #