খুলনায় দুর্বৃত্তরা মাসুম বিল্লাহ (৪০) নামে এক শ্রমিকদল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ের বাটার দোকানের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান নামে এক রিকশাচালক গায়ে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মাদের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ পুলিশ আটক করেছে।
হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চত করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে ও নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামালের ছোট ভাই। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, রাত ৯টার দিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থানকালে ৫ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ অশোক ঘোষ নামে একজনকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করতে সক্ষম হয়। তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
এদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক অশোক ঘোষ পুলিশের তালিকাভুক্ত গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্য। কী কারণে মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে তা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তুহিনুজ্জামান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার আগে মুজাহিদপাড়ার রহমতিয়া জামে মসজিদের কাছে অবস্থান করছিলাম। সেখান থেকে চলে আসার কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা অপর একজনকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে হাবিবুর গুলির সামনে এসে পড়ে। গুলিটি তার পিঠের ডানপাশে বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা হাবিবকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
প্রসঙ্গত, নিহত মাসুম বিল্লাহর বড়ভাই রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।