বীরেন মুখার্জীর কবিতা : জোছনার বর্ণমালায় কুয়াশার অনুবাদ

: আমিনুল ইসলাম
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে
ছবি : কবি বীরেন মুখার্জী

সাম্প্রতিক বাংলা কবিতার অঙ্গনে বীরেন মুখার্জী একটি সুপরিচিত নাম, উজ্জ্বল মুখ। কবিতা রচনা, প্রবন্ধ লেখা, সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা- এসব মিলিয়ে তিনি একজন চৌকশ সাহিত্যকর্মী। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সাফল্য অনানুষ্ঠানিকতায় স্বীকৃত ও প্রশংসিত। বাংলাভাষী ভূগোলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষিতজনের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কাব্যচর্চার পরিমাণ সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে কবির সংখ্যাও বেড়েছে বহুগুণে। এটি নিয়ে এসেছে দুধরনের সম্ভাবনা। প্রথমত দলবদ্ধ হয়ে কাব্যচর্চা: ফলে ঝাঁকের কই হয়ে যাওয়া। আরেকটি হচ্ছে: ভিড়ের মাঝে থেকেও ভিড় এড়িয়ে যতখানি সম্ভব সাধ্যমতো প্রাতিস্বিক হয়ে ওঠা। বীরেন মুখার্জী শেষোক্ত গোছের ব্যক্তি ও কবি।

তিনি তার কাব্যভাবনা কিংবা কাব্যচর্চা নিয়ে হইচই করে কথা বলেননি কখনো; দলবদ্ধতার কোলাহলে কিংবা উদ্ধত ব্যক্তিগত উচ্চারণের মোড়ে নীরবতা বজায় রেখে কবিতার চর্চা করে চলাই তার অঘোষিত অভিমত— অটল অবস্থান। অবশ্য নিবিড়চারী দৃষ্টিপাতে তার কোনো কোনো কবিতার হৃদয়ে আপন কাব্যভবানা ও কাব্যচর্চার কিসিম সম্পর্কিত মৃদুভাষী ইশতেহার লক্ষ করা যায়। এটা ঠিক যে কবি কোনো বনজঙ্গলের সন্ন্যাসী নয়, গৃহত্যাগী দরবেশও নন। সমাজবদ্ধ প্রাণী হিসেবে তার উপরও সমাজের নানাবিধ প্রভাবজনিত ছাপ পড়ে। সেসব প্রভাব বা ছাপ নিঃশেষে অগ্রাহ্য করার কোনো অবকাশ নেই। কবির কাজ হচ্ছে সাধারণের মধ্যে থেকে সাধ্যমতো অসাধারণ হয়ে ওঠা। কবি বীরেন মুখার্জীর কবিজীবনের মধ্যে সেই সফল প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়।
প্রথাগত রাত্রি যাপনের পর স্মৃতি হন্তারক দিন উঠে এলে
বরফকুচি ভোরের জানালায় লুকিয়েছি ভ্রমণচিহ্ন
শব্দের মৌনাস্ত্র জমা দিয়েছি পত্রগুঞ্জনে;
তবু শিল্প সন্ধানে আহত দেখি দিনের কঙ্কাল
সম্ভ্রম হারানো সম্প্রীতি থেকে তুলে নিচ্ছে বোধ
আর মহাশূন্য থেকে ছুটে আসা
গতিময় আলোকট্রেন!
শিল্প সহযাত্রী, কুয়াশা ভেলায় অতিক্রম করে দীর্ঘপথ
সবুজ মন, পাতার লাবণ্য ছুঁয়ে ইট-সুরকির গুপ্তবৃন্দাবন
কখনো সংবৃত সময়ের ডানায় অলৌকিক উড্ডয়ন
আলপিনবিদ্ধ তালুতে মোহের ভগ্নাংশ নিয়ে
পার হয় উড়ন্ত জেব্রাক্রসিং
দেখি, বুক এক রুগ্ননদী, চারিপাশে ধোয়াশা ভীষণ!
এখন কুয়াশা অনুবাদ করি, তুলে রাখি শিল্প-চুম্বন
কেননা, ঠোঁটেও সুপ্ত দেখি স্পর্শের বহুবর্ণ ক্ষত!
[‘শিল্প-চুম্বন’]

উত্তর-কাঠামোবাদ বলে যে শিল্প ও শিল্পীকে একত্রে পাঠ করা হলেই তার সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে যথাযথ ও সম্যক ধারণা অর্জন সম্ভব ও সহজ হতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে ‘কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে’—এই রাবীন্দ্রিক ভাষ্যের বিপরীতে যায়। গেলেই কি করার থাকে! কবিতাও তো ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ শুনতে পায় এবং পরিবর্তনের রথ ফেল করতে চায় না। বীরেন মুখার্জী- আজকের এই এপস্টেইন সময়ের উঠোনে একজন উত্তম মানুষ। কবি, গবেষক, লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক। সবখানেই উজ্জ্বল তিনি। কোথাও উদ্ধত নন । প্রগলভ নন। মিডিয়ার ভেতরের মানুষ কিন্তু মিডিয়াবাজ নন এতটুকুও। বীরেন মুখার্জী একটি বিনীত প্রতিভার নাম। সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের মানুষ তো এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে : আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিশ্ব-অর্থনীতি, দেশি-বিদেশি সাহিত্য-সংস্কৃতি– প্রায় সবখানে চোরের বাপের বড়ো গলা নিয়ে স্টানবাজ বিপরীত দৃশ্যের আস্ফালন। চেয়ার দখলে রাখা আস্ফালনওয়ালাদের পৃথিবীতে বসবাসকারী বীরেন মুখার্জীর হাতে রচিত হয়েছে শান্ত নদীস্রোতের মতো হৃদয়চারী সংগীতময় কবিতা যা বয়ে চলেছে লক্ষ্যে রেখে সময়ের মহাসমুদ্র। তাঁর কবিতা কোনোদিনও মরবে না মাথা কুটে প্রাণহীনতার বালুচরে। অন্তরের স্রোতসচ্ছলতা নিশ্চিত করবে তাদের বহমানতা। বীরেন নিজেই তার এক কবিতায় আত্ম-অভিজ্ঞানে অর্জিত আত্ম-উপলব্ধির সুরে বলেছেন-
‘আমাকে মৃতনদী ভেবেছিলে হয়তো-বা,
কিংবা, ইতিহাসের পলি থেকে জন্ম নেয়া পাপ;
অথচ, তরুণ স্রোতের দুরন্ত নাবিক ছিলাম
আমি, যাপনের চারিপাশে, দেখতে পাওনি’

এটি প্রগল্ভতায় আকীর্ণ আত্মোহংকার নয়; নম্রতায় সচ্ছল আত্মবিশ্বাস। সৃষ্টিশীলতার ভূগোলে এই তরুণ সোতের দুরন্ত নাবিক বীরেন মুখার্জী। তার দুরন্তপনায় হইচই নেই, কোলাহল নেই; আছে বসন্ত বাতাসের মতো পরিস্ফুটিত করে চলার অন্তরঙ্গ ঐশ্বর্য। তার কবিতা বসন্তে পরিস্ফুটিত বাগান যা হরমৌসুম রূপে-রসে-গন্ধে সচ্ছল। যোগ্যতা থাকলে এই বাগানের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়া যায়- যোগ্যতা থাকলে এই বাগানের খোশবুতে ভরে নেয়া যায় চিন্ময় পিয়াসার হৃদয়-মন। বীরেন মুখার্জীর কবিতার গুণগ্রাহী কম ছিল না কোনোদিনও। দিনদিন সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে বলেই দেখা যায়।

বীরেন মুখার্জীর কবিতা কেমন? বীরেন মুখার্জীর কবিতায় আছে অন্তঃসলিলা সংগীতের গুঞ্জন। তার কবিতা মৃত্তিকালগ্ন কিন্তু তাদের আছে অদৃশ্য ডানা। সেই ডানার সঙ্গী হয়ে উড়ে যাওয়া যায় অনুভবের আয়োনোস্ফিয়ার পার হয়ে দৃশ্যের বাইরে আসমানি বুক মেলে থাকা উর্ধ্ব-আকাশে। সেই আকাশের কোনো সংজ্ঞা নেই, তার প্রাঙ্গণের কোনো পরিসীমা নেই, তার সম্মোহনের কোনো সুনির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। পাঠক স্বাধীন তার মনের মুগ্ধ প্রাক্কলনে—কল্পনার অবারিততায়। সব পাখি আকাশের অসীমতায় উড়ে যেতে পারে না; সব পাঠকও মেলতে পারে না শৈল্পিক কল্পনার পাখা। বীরেন মুখার্জীর কবিতা মূলত সক্ষম পাঠকের জন্য , আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে যাদের ভেতর একটি প্রষ্ফুটিত অথবা অনাবাদকৃত কবিমন আছে তাদের জন্য। কিন্তু কিবি হিসেবে বীরেন মুখার্জীর বড়ো শক্তি এই যে, তার কবিতার মূলভাব পুরোটা বুঝতে পারা না গেলেও কবিতার শরীরে বিরাজিত শব্দ ব্যবহারের শৈল্পিকতা, অভিনব রসনিবিড় উপমা, কল্পনামাখা চিত্রকল্প ইত্যাদি পাঠকমনকে মুগ্ধ করে তোলে। কিছুটা বুঝে কিছুটা আন্দাজে ধরে নিয়ে পাঠক উপভোগ করেন তার কবিতা। আমার কথার সূত্র ধরে আরও একটি কবিতা পাঠ করে নেয়া যায়-
‘ঈশ্বরের বিপরীতে এক জন্ম বেলেহাঁসের ডানায় সমুদ্রমন্থনে যাবো
জোনাক তাড়িত রাত, সম্পর্শরেখা দিয়ে মেপে নিতে পৃথিবীর বিপুল
শূন্যতা! এক জন্ম পর্যটক দৃষ্টি এড়াবো—তারযন্ত্রে ঝরে গেলে নৈঃসঙ্গ্য
ও বিষাদ তুলে দেবো ব্যক্তিগত ভোরের স্বাধীনতা, দহনের বিপরীতে
নক্ষত্রখচিত পথ!
জলের গুহায় নাচে নিষ্কলঙ্ক হাত— ও নারী, কেন আজও মৎস্যগন্ধা
দেহ। জলের সারল্য নিয়ে ডেকে যায় পরাশর এসো, পুনর্বার সঙ্গমে
হয়ে ওঠো গর্ভবতী।’
[‘গন্ধবতী’, পালকের ঐশ্বর্য]

এটি মীমাংসিত সত্য যে, কবিতা হচ্ছে বোধগম্যতায় সৃষ্ট শব্দের শিল্প। শব্দ মানেই উচ্চারণযোগ্যতার অস্তিত্ব । কবির ক্ষেত্রে শব্দ ব্রহ্মা—এমন কথাও বলেছেন কেউ কেউ। তো উচ্চারণের শক্তি সর্বজনবিদিত। নীরবতারও শক্তি আছে। কবি মোহাম্দ মনিরুজ্জামান রচিত একটি গীতিকবিতায় যথার্থভাবেই ভরা হয়েছে-
‘নীরবতা শুধু ঢেকে রয়
যেন অপরূপ নীরবতা
তুমি কাছে এলে বলতে পারি না
আমি আজ কোনো কথা।
নীরবতা সে তো শান্তির ধারাজল
নীরবতা সে তো কবিতার পরিমল
কি করে বুঝায় তুমি এলে
মনে কত রয় আকুলতা।
দিনের সকল কোলাহল শেষ হলে
রজনী নীরবে প্রণয়ের কথা বলে
কি করে তখন সুরে সুরে
আমি আঁকি সেই চঞ্চলতা।

নিঃসন্দেহে প্রকাশের জন্যই শব্দ। কিন্তু কথা আরো একটুও আছে। শব্দ প্রকাশ করে আবার এক্ইসঙ্গে কিছু কিছু আড়ালও রাখে। প্রেম আর কবিতা অনেকক্ষেত্রেই সমগোত্রীয়তা ও সমভাষিতার অংশীদারত্ব বজায় রেখে চলে। সে কারণে প্রত্যক্ষ প্রকাশের পাশাপাশি সংকেতগর্ভ নীরবতা উভয়েরই মধুর অস্ত্র। অন্তরঙ্গ ঐশ্বর্যও। বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের দুটি চোখ থাকলে মুখ ফুটে ততকিছু না বললেও প্রকাশের কোনো ঘাটতি থাকে না। বীরেন মুখার্জী তার ব্যক্তিসত্তার মতোই নিজ কবিতার শরীরে ধরে রাখেন অভিব্যক্তিগর্ভ নীরবতা। তিনি ভিড়ের মাঝেও বাচালতায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন না। তার কবিতাও সেকরম। ব্যাপক আবেগের কবিতায়নও তার হাতে লাভ করে সংহত ভাষা। কিন্তু আবেগবর্জিত কূটনৈতিক নিস্প্রাণতা তার ভাষা নয়, তাঁর কাব্যভাষা শীতের স্রোতেলা নদীর মতো গুঞ্জনময়। তাঁর কবিতা প্রেমিকার থরথর সুবজ অধরে চুম্বন এঁকে দেওয়ার সময়ও সন্ধ্যার আকাশ-পৃথিবীর মিলনমুহূর্তের মতো অনুদ্ধতায় উচ্ছ্বসিত। বীরেন মুখার্জীর বিশেষত্ব এখানেই- তার এমন সংহত ও অনুদ্বেলিত ভাষায় রচিত কবিতাও সবুজতায় সচ্ছল এবং প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর । তিনি পরিমিতি বোধের অনুসারী কিন্তু কঞ্জুসের প্রাণ নয় তার। তার অধিকাংশ কবিতা আকারে ছোটো এবং সুনির্বাচিত শব্দে ও কাব্যালংকারে ঝংকৃত। এসব কবিতাকে ছোটো আকৃতির রাগপ্রধান গান শোনার তরিকায় বারবার পাঠ করে নানাস্বাদের রস আস্বাদন করা যায়। আরেকটি কবিতা-
‘জন্মান্ধ পাথর জানে প্রাতঃস্নানে মেতেছে নগর
যখন গড়াচ্ছে জল শুদ্ধতার
রাশি রাশি ছড়িয়ে পড়েছে কথা
মুগ্ধতার ছিপি কুলে উড়ে যাচ্ছে আহত বাতাস
তবুও কোথাও যাইনি আমি—
বহুকাল দীর্ঘ নিঃশ্বাসের ভেতর তাকিয়ে রয়েছি
এভাবে তোমার সীমানায়
জটিল ধোঁয়ার ভেতর যেন এক সরল গিনিপগ!
আমাদের কোলাহলগুলো বেদনাবাহিত
ছুঁয়ে যায় যুগল রাতের মায়াবী স্টেশন
স্বল্পতম জীবনের
এক… দুই… তিন…”
[‘দাহ’, গুচ্ছঘাসের অন্ধকার]

বীরেন মুখার্জী গভীর আড়ালে প্রেমিক আত্মার অধিকারী কবি। প্রেমিক যদি অন্যায় প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিপ্লবী হয়ে না উঠতে পারেন তবে তিনি যোগ্য প্রেমিক নন। প্রেম মানেই অপ্রেমের বিরুদ্ধচারণ। সৃষ্টিশীলতার ছয়রঙা আকাশে প্রেম ও বিদ্রোহের যুগপৎ ঝাণ্ডা উড়িয়ে চলা কাজী নজরুল ইসলাম “মম এক হাতে হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য!”—এই ইশতেহার ঘোষণার পর থেকে কবিতার ইজমে ও প্রকরণে বহ পরিবর্তন এলেও এই নান্দনিক সত্যের অনুসরণে পূর্ণযতি পড়েনি কোনোদিনও। বীরেন মুখার্জী হৃদয়চারী উচ্চারণে অভ্যস্ত হলেও তিনি স্বার্থপর আত্মমগ্নতায় অগ্নিপ্রহরেও কবিতার বাঁশিতে কেবল মোহন সুর বাজিয়ে যাননি। যে ললিত ভঙ্গিতে তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও হৃদয়ের ছায়াবীথি ছুঁয়ে হাত নেড়ে গেছেন প্রায় অনুরূপ অনুদ্ধতপনায় তিনি নামঞ্জুরের ঘোষণা শুনিয়েছেন প্রেমবৈরী-শান্তিবিরোধী স্থাপনার উত্থিত ঔদ্ধত্যকে। তার সেই প্রতিবাদ সাম্রাজ্যবাদীদের মিসাইল হুঙ্কারের বিরুদ্ধে শান্তিবাদী প্রেমিকের আঙুলে বোতাম টিপে ‘না’ ভোট দেওয়ার তরিকায়। তার প্রতিবাদের কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী-সাম্প্রদায়িক-পণ্যবাজ শক্তিগুলোর নাম লেখা হয়নি প্রত্যক্ষ শব্দের সনাক্তিতে কিন্তু নিবিড় মনোযোগ দিয়ে পাঠ করার সময় দু্ই পঙক্তির মাঝে থাকা শূন্যস্থান থেকে জলছাপ অস্তিত্ব নিয়ে ভেসে ওঠে সেই নামগুলো। বিশ্বরোড ধরে অন্যায়সাধনে এগিয়ে চলা সাধুতার মুখোশ পরিহিত কায়েমী স্বার্থপর শক্তির মিছিল উলংগ হয়ে ওঠে কাতুকুতুসম শ্লেষমাখা অঝড়ীয় হাওয়ার আঙুলে।
মানুষের গল্পগুলো ঋতুর বিকারে ঝলসানো রাজ্যপাট
ঈর্ষা পাহাড় থেকে জন্ম দিচ্ছে গভীর আঁধার, ধাঁধাঁ;
আগুনের সিংহদ্বার ফুঁড়ে চোখ রাঙাচ্ছে জ্বলন্ত ফণা
আর, দিগম্বর বিশ্ববণিক ছুটে চেলেছে গোলার্ধময়!
[‘মানুষের গল্পগুলো’]

সর্বোৎকৃষ্ট শিল্পের কারিগর হিসেবে কবিকে সম্প্রসারণ ও সংকোচন, গভীর ও অগভীর, স্বচ্ছ ও আড়ালময়— ক্ষেত্রবিশেষে ও প্রয়ো্জন অনুপাতে এসব নিশ্চিত করার কৌশল রপ্ত করতে হয়। বীরেন মুখার্জী এই কৌশল রপ্ত করেছেন এবং ভালোভাবেই করেছেন। কাব্যালঙ্কার ব্যবহারে তিনি কৃপণ নন, অপব্যয়ীও নন; মিতচারী। পরিমিতিবোধ, সংহত ভাষা, শব্দ ব্যবহারে মিতব্যয়িতা– এসব বীরেন মুখার্জীর কবিতার নিয়ত দৃষ্টিগোচরযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এসব খুব সহজেই ধরতে পাবেন পাঠকগণ। এটা সত্য যে, বীরেন মুখার্জী কবিতায় সমাহিত স্বভাবের কিন্তু তিনি স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক কবি নন । দেশ ও দুনিয়ার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে সংকীর্ণ আত্মবোধে কুয়ায়িত হয়ে থাকা তাঁর নয়। তাঁর কবিতা আত্মমগ্ন ব্যক্তির কল্পনাসর্বস্বতার শিল্পায়ন নয়। প্রাতিস্বিক শিল্পিতার নিবিড় আড়ালে ফল্গুধারার মতো প্রবাহিত তাঁর সামাাজিক দায়বোধ ও মানবীয় শুভবোধের ধারা। অবশ্যই তিনি আধুনিক মন ও মননের অধিকারী। ফলে নিরীক্ষাপ্রবণ অগ্রসর আঙ্গিকতায় সমর্পিত তার সৃজনশীল মেধা ও মননশীল মন। আবার একইসঙ্গে তিনি অন্তরে ধারণ করেন শুভাশুভের বোধ, নমিত চোখে ধরে রাখেন সমাজকে দর্শনের খোলা দৃষ্টি, একান্ততা অন্বেষী মগজে পুষে রাখেন পার্থক্য রচনার শানিত বিবেচনাবোধ। তাঁর কবিতায় প্রেম আছে, প্রকৃতিলগ্নতা আছে, কল্পনার ঐশ্বর্য আছে । এসব সহজেই চোখে পড়ে। কিন্তু অনেক নীরবতার আড়ালে আছে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ, সমূহ মগ্নতার পাশেই আছে তীক্ষ্ণ চেতনা, যাবতীয় আত্মচারিতার ফাঁকে ফাঁকে আছে বৃহত্তর সামাজিক দায়বোধের অপ্রগলভ উচ্চারণ। রোম যখন পোড়ে, অন্তত তিনি তখন নিরোর হাতে বাঁশি বাজান না। তিনি ভালোবাসার সকালে প্রিয় উচ্চারণের সময় অনুদ্বেলিত থাকেন, সংক্ষুব্ধ সময়ের উঠোনে প্রতিবাদের ভাষায় থাকেন ইঙ্গিতধর্মী। কিন্তু প্রেম বা প্রতিবাদের অভিব্যক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কবিতার জোছনাময় ভাষা। পাঠককে প্রকাশের টর্চহাতে নিয়ে আড়ালের আঁধার ভেঙে চলতে চলতে কবির ভাবনার অশরীরী মূর্তির মুখোমুখি পৌঁছাতে হয়। শ্বাসছোঁয়া নৈকট্যে পৌঁছানো যাক কিংবা না যাক, টর্চহাতে আলো-আঁধারির স্বপ্নময় উঠোন-ভ্রমণ হচ্ছে পাঠকের সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞত। প্রাপ্তিও।
‘ঘুমের অতলে নিভে যেতে যেতে জেগে ওঠে কল্পনাস্নিগ্ধ হাত, শ্যামল
পলিমাটি; এই রাত, ভুলের আকাশে ডানা মেলে তুলে আনে শিশিরের
চোখ—পোড় খাওয়া বুক! নিঃসঙ্গ পাহাড় ও অরণ্যের টানে চাওয়াগুলো
লালস্রোত পরাধীনতার বোধ ভেঙে অতিক্রম করে শরণার্থী পল্লী,
যেখানে অবাধ ক্ষুধা ও ভ্রুণের নৈমিত্তিক সম্মিলন; ক্ষতের ব্যঞ্জনা নিয়ে,
সেই স্রোতে আমি এক শিশু পর্যটক জন্মের ঘোরে পান করি তুমুল
তর্জনী।’
[‘পৃথিবীর টানের ভেতর’, পালকের ঐশ্বর্য]

অনিন্দ্যসুন্দর এমন অজস্র কবিতার কারিগর বীরেন মুখার্জী। তিনি শব্দ ব্যবহারে মিতব্যয়ী কিন্তু তার কবিতার সংখ্যা মোটেও কম নয়। পেশাগত শশব্যস্ততার মাঝেও তিনি কবিতা রচনা করে এসেছেন এবং করে আসছেন বিস্ময় জাগানো নিরবচ্ছিন্নতায়। এটি একইসঙ্গে তার সহজাত কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে।
উপমার আড়াল কিংবা চিত্রকল্পের আলো-আঁধারি যতই সমৃদ্ধ হোক, একজন কবি শেষ পর্যন্ত নিজেকেই উদ্ভাসিত করেন তার কাব্যের ক্যানভাসে। কখনো সচেতন প্রয়াস কখনো-বা অবচেতন সক্রিয়তা তাকে সামনে নিয়ে আসে গভীরচারী পাঠকের। বীরেন মুখার্জীর কবিতার ক্যানভাসে বিশ্বের নানাবিধ নানা চিত্রের আনাচকানাচের রঙে-রসে মাঝেমাঝে তাঁর আত্মার এমবোস উপস্থিতিও জানান দেয় । প্রত্যক্ষ উচ্চারণে ও পরোক্ষ অভিব্যক্তিতে শান্তশিষ্ট নিরতিশয় ভদ্রগোছের ব্যক্তি বীরেন মুখার্জী প্রাণে ও মনে, স্বপ্নে ও বাসনায় একজন গহনচারী প্রেমিকমানুষ। তাঁর অনেক কবিতায় তিনি নিজেকেই বারবার লিখেছেন। লিখনশৈলীর বৈচিত্র্যে সেসব পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি এড়িয়ে হয়ে উঠেছে নতুন নতুনশিল্প। বিগত শতাব্দীর আশির দশক থেকে বাংলাদেশের কবিরা প্রকাশশৈলীতে মূলত নিরীক্ষাপ্রবণতার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সেটা আজও কমবেশি অব্যাহত রয়েছে। তারই মাঝে যে-কয়জন কবি নতুন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরীক্ষাধর্মিতায় সমর্পিত থেকেও অব্যাহতভাবে প্রেমের কবিতা লিখে এসেছেন তাদেরর একজন হচ্ছেন বীরেন মুখার্জী। তার প্রেমের কবিতা অনাগ্রাসী, নম্রভাষী ও হৃদয়গামী। তার অনুরাগনিবিড় উচ্চারণ উদ্দিষ্টের দরোজায় গিয়ে সজোরে করাঘাত করে না, ফাল্গুন হাওয়ার পরশ দিয়ে তাকে জাগিয়ে দিতে চায় হৃদয়ের ঘুমন্ত কুঞ্জবনে। অচিহ্নিত ভূগোলে তার স্পর্শ লেগে মোচড় দিয়ে জেগে ওঠে অনুরক্ত প্রাণ। নিবিড় অনুরাগের অপ্রত্যক্ষ প্রস্তাব সর্বজনীনতায় বরণীয়তা লাভ করে অসনাক্ত হাজারো হৃদয়ে।
সৃজন ও মহিমায় দেখি যতবার, ফুটে ওঠো;
তুমি এক নৈঃশব্দ্য বিম্বিত রাত, সমূহ রক্তিম!
পুষ্পের সমারোহে আন্দোলিত জলধি; যেন—
জীবনের পদ্মে বসে থাকা সোনালী তিতির!
তোমাকে জ্যোৎস্না ভাবে ঘুমন্ত রাতের পাখি
বুনোফুল সুঘ্রাণ উন্মুক্ত করে কাছে ডাকে
তোমার নামে বদলে গেলে জাগতিক ভাষা
যাপনও হয়ে ওঠে রূপান্তরকামী মিত্র এক।
এভাবেই, সময়ের ব্যঞ্জনা পেরিয়ে হয়ে ওঠো
অজর অমেয় গীতি, শূন্য বুকে বসন্তবাতাস!
[‘বসন্তবাতাস’]

আমার কাছে শিল্পবিচারের সবচেয়ে বড়ো মানদণ্ড হচ্ছে ‘ভালো লাগা’। কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চিত্রকর্ম—যেটাই হোক, পাঠক-স্রোতা-দর্শকের যদি তা ভালো লাগে, তবে সেটাই সেই সৃষ্টিকর্মের প্রথম সাফল্য কিংবা বড়ো সার্থকতা।মানুষের সকল সৃষ্টির মূল লক্ষ্যভুক্ত মানুষের ভালো লাগা অর্জন। ভালো লাগার কারণগুলো হচ্ছে : চমক, সম্মোহন, অভিনবত্ব, রহস্যময়তা ও কল্পনার অবকাশ। বীরেন মুখার্জী কবিতার মধ্যে প্রকাশের সঙ্গে রহমস্যময়তা আছে, পাঠকের জন্য নিজের মতো কল্পনার পথ ধরার অবকাশ আছে, উপমা-চিত্রকল্পের অভিনবত্ব আছে এবং সবচেয়ে বড়োকথা একধরনের সম্মোহন আছে। তার কবিতা পাঠকালে পাঠক বোঝা ও না-বোঝার মাঝামাঝি সম্মোহনের মাঝস্রোতে ভেসে যেতে থাকে এবং কূল জুটুক বা না জুটুক ভেসে ভেসে আনন্দ পায়।
‘খুব ভোরে পরিচিত স্বপ্নগুলো অচেনা হয়ে যায়
বিচিত্র পথের সাক্ষী, ফেলে গেলে ঝড়ের রাতে
আমি এক অন্ধ মাঝি, পাল্টে যাওয়া দৃশ্যপটে
চোখের গোলকে বন্দি রাখি সোনারঙ ইলিশ!
অপরিচিত মুদ্রার রহস্য নিয়ে জন্মান্ধ অভিযাত্রী এক
অতিক্রম করে স্বচ্ছ জলাধার থেকে হেমন্তের নগ্ন মাঠ
বিশ্রামহীন এই চলা ঘড়ির কাঁটায় টিক টিক
মাটির ঘ্রাণে সুবাসিত তবু আটপৌরে স্ব-কাল!’
[‘অপরিচিত মুদ্রার রহস্য’]

কবিতা হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট শিল্প।সেজন্য কবিকে দক্ষ শিল্পী হতে হয়। কবির প্রধান উপকরণ জুতসই শব্দ। তার প্রধান কৌশল হচ্ছে শব্দের নিপুণ ব্যবহার ঘটিয়ে অভিনব স্বাদের উপমা সৃষ্টি করা যা নদী হয়ে বয়ে যায় চিত্রকল্পের সমুদ্রে। বীরেন মুখার্জী লাজুকভাষিতার আড়ালে একজন সাহসী শব্দকারিগর। তার হাতে পুরোনো শব্দ নতুন অর্থব্যঞ্জনায় ব্যবহৃত হয়েছে; তাঁর হাতে সৃষ্ট নতুন ধাঁচের উপমা সৌন্দর্যব্যঞ্জনার স্রোতে ভেসে ভেসে সার্থকভাবে চিত্রকল্পের সাগরে মোহনা খুঁজে পেয়েছে। নিবিড় যত্নে একটা প্রাতিস্বিক কাব্যভাষা নির্মাণ—একটি আপন প্রকাশশৈলী সৃষ্টি– তার সবখানি অঘোষিত লক্ষ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং তিনি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এই সাধনায় তিনি আগ্রাসী চিত্ত নন; অটুট ধৈর্য সহকারে নিবিড় পরিশ্রমী। ‘সম্ভ্রম হারানো সম্প্রীতি থেকে তুলে নিচ্ছে বোধ’, ‘মেঘের গ্রীবা ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছে মেঘ-আত্মজসন্ধ্যায়’, ‘সাংস্কৃতিক কোলাজের বিপরীতে বিলাসি পাড়ায় তবু ওড়ে লবণাক্ত ঘুম’,‘ভোগের নদীতে উড়িয়ে দেওয়া উজ্জ্বল ভোর বহুদিন মিছিলে নামে’, ‘লোভের ছুরিতে মেখে ব্যবচ্ছেদ রঙ’, ‘ভোজবাজির দুপুরগুলো ধূলিময় পথের দালাল’, ‘চিৎকারের অ্যাপ্রন’, ‘উচ্ছ্বাসের স্তবক’, ‘সার্বভৌম অণ্ধকার’, ‘সাধুসন্ধ্যার ওপারে ঘুমিয়ে থাকা ঈশ্বর’, ‘টেরাবাইটে মাপা হচ্ছে কথার শর্করা’, ‘দিগম্বর বিশ্বণিক’, ‘অনস্তিত্বের বাঁক’, ‘শীত নিংড়ে কৌতূহল চলে যাচ্ছে- উত্তরের পথে’, ‘তবুও কী এক বিস্ময়ে দুচোখ আমার/কলঙ্ক মাখবে বলে কম্পমান, নৈঃশব্দ্যের জানালায়।’, ‘অসীমের তাড়না ভাঙে পিঞ্জরের অবশিষ্ট আয়ু’,‘ অব্যক্ত ক্ষরণ বুকে ভেসে যাচ্ছে মাঘের শহর ।’, ‘বোধের পরাগ উড়িয়েছি বহুকাল প্রমিত আলোর সন্ধানে’, ‘নিয়তির জ্যোৎস্নায় পুড়ে যায়-অমরত্বের মানবিক গুহা!’, ‘দূরত্বে মজেছে দেহ নৈকট্যের ঘানি টানা মিছে’, ‘কিছু সংশয় দেহের ভাঁজে গচ্ছিত রাখে সারাক্ষণ’, কিছু সংশয় দেহের ভাঁজে গচ্ছিত রাখে সারাক্ষণ’, ‘পলাতক গন্ধ তার ঢেকে রাখি বুকের বাস্তবতায়, মসৃণ আদরে।’, ‘বাতাস হয়ে ছুঁয়ে যাওয়া রোদ্দুরের রঙ’, ‘তালুতে শুয়ে থাকা আয়ুরেখা যেন এক অন্ধ অজগর’, ‘মীন চোখে জলের শুদ্ধতা দেখে দেখে/ভুলে আছি কলঙ্কিত প্রাণের উপদ্রুত ইতিহাস’, ‘কুয়াশার স্রোত ভেঙে স্বপ্নমুগ্ধ জ্ঞানে /প্রাকৃতিক বীণায় বাজে প্রস্থানের সুর’, এবং এমন আরও অজস্র মণিমুক্তা ছেনে আনা যায় তাঁর কাব্যমালা থেকে।

অন্তরঙ্গ ভাবনার উদ্ভাসনে এবং প্রকাশশৈলীর স্বংভাবে কবিতা নানারকমের হয়।কোনো রকমের কবিতাই নিউটনের গতিসূত্রের মতো চিরসত্য নয় আবার কোনো কবিতাই ‘পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে’— এই ধর্মীয় মতবাদের ভুল মর্মে বাতিলযোগ্য নয়। কবিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হচ্ছে কাব্যভাষার প্রাতিস্বিকতা। কাব্যভাষা নিজস্বতায় পুষ্ট হতে হয় এবং একইসঙ্গে তা শৈল্পিক সৌন্দর্যে সচ্ছল হওয়া লাগে। একই রবীন্দ্রসংগীত-নজরুল সংগীত গেয়েও সবাই দেবব্রত বিশ্বাস-ফিরোজা বেগম হতে পারেন না। ‘তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী/ আমি অবাক হয়ে শুনি কেবল শুনি।’—রবীন্দ্রসংগীতের এই অঘোষিত শৈলীদর্শন কবিদের জন্যও সমভাবে প্রযোজ্য। বীরেন মুখার্জী কবি হিসেবে একারণেই গুরুত্বপূর্ণ- তার কবিতার পঙক্তির ভাঁজে ভাঁজে ছড়ানো-ছিটিয়ে থাকা মণিমুক্তা যুগপৎ কবিতার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে এবং কবির জহুরিপনার ছাপ বহন করে চলেছে। স্বভাষায় প্রচলিত হয়ে আসা বিদেশি ভাষার শব্দ কবিতায় ততটা আমদানি না করে তিনি মূলত বাংলা শব্দ সহযোগে ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ পঙক্তি রচনা করেছেন। এক্ষেত্রে তার কৃতিত্ব হচ্ছে, তার কাব্যভাষা পরিবর্তিত সময়ের রুচি ও চাহিদা মেটাতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি যেমন নতুন ধরনের বাঁশি তৈরি করেছেন তেমনি পুরোনো বাঁশিতেও নতুন সুর ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই সুর আবহমান সংগীতের সুধা ধারণ করে তার সঙ্গে বদলে যাওয়া পৃথিবীর তাল ও ছন্দকে আত্মীকরণ করেছে। তার কবিতা একইসঙ্গে আবহমান বাংলা কবিতার স্বগোত্রীয় এবং নতুন প্রজন্মের অগ্রগামী শিল্পযাত্রী।

 

  • বাংলা কবিতা
  • বীরেন মুখার্জী
  • সম্পাদনা
  • সাহিত্যপত্রিকা
  • #