পাঁচ মাসে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় নিহত ১২, আহত ২৬৫৩ : এইচআরএসএস

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ৭০০ এর বেশি সহিংস ঘটনায় ১২ জন নিহত ও দুই হাজার ৬৫৩ জন আহত হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ত্রয়োদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা : নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে সামগ্রিক সহিংসতার চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭০০ এর বেশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৫৩ জন আহত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৪৫ জন এবং ৬০০ এর বেশি বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচনি কার্যালয় ও ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৫৪টি সহিংস ঘটনায় এক হাজার ৬৫০ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হন।

এই সময়ে বেশিরভাগ সহিংসতা ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী, বঞ্চিত প্রার্থী, দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং বিশেষত অন্তর্দলীয় সংঘাত থেকে। কেবল বিএনপির অন্তর্কোন্দল থেকে সংঘর্ষে ৬৮টি ঘটনায় অন্তত ৫৯৫ জন আহত ও তিনজন নিহত হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ১০০টি সংঘর্ষে ৯১৫ জন আহত ও একজন নিহত হয়।

নির্বাচনের দিন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষ প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্বাচনের দিনে পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। দেশজুড়ে অন্তত ৩৯৩টি অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ১৪৯টি, প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ১০৫টি, ব্যালট স্টাফিং ৫৯টি, পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়া ১৯টি, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা ১৮টি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গাফিলতি ১৩টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ৬টি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ৩টি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা দুটি।

এছাড়া ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, ১৩ জন প্রিজাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার করা হয়, ৫৫টি ঘটনায় দণ্ড বা জরিমানা হয়, ৫ জন সাংবাদিক আহত হন এবং তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও প্রতিশোধমূলক রাজনীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনকেন্দ্রীক সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ফলাফল ঘোষণার পর সহিংসতার পুনরুত্থান।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩০টি জেলায় ২৬০টির বেশি পৃথক সংঘর্ষে সাড়ে ৪০০ এর বেশি মানুষ আহত হয় এবং অন্তত ৪০০টি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাঁচটি পৃথক ঘটনায় চারজন যুবক ও এক শিশু নিহত হয়।

নির্বাচনে নারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতা ও অপমানজনক আচরণের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তফসিল ঘোষণার পর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৩২টি ঘটনায় ৪০ জন নারী হয়রানির শিকার হন এবং ২৩ জন আহত হয়।

নির্বাচন-পরবর্তী ১০টি হামলায় অন্তত ২৫ জন নারী আহত হন এবং একটি ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার মধ্যে নারী কর্মীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা, প্রচারণায় বাধা দেওয়া, শারীরিক আক্রমণ, অপমান এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের কারণে টার্গেট করার মতো ঘটনা রয়েছে।

  • আহত
  • এইচআরএসএস
  • নির্বাচন
  • নিহত
  • সহিংসতা
  • #