বাগেরহাটের রামপালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নববধূসহ তিনজন নারী, তিনজন শিশুও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মোংলা উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবাদুর রাজ্জাক, তার ছেলে (বর) সাব্বির, নববধু মারজিয়া আক্তার মিতু, মিতুর নানী আনোয়ারা বেগম, রাজ্জহাকের মেয়ে লামিয়া, রাজ্জাকের স্ত্রী আন্জুমারা বেগম, রাজ্জাকের আরেক ছেলের স্ত্রী পুতুল, পুতুলের ছেলে আলিফ, রাজ্জাকের আরেক মেয়ে ঐশি, ঐশির স্বামী সামিউল, ইরান ও মাইক্রো চালক নাঈম। এছাড়া আবদুল্লাহ সানি ও অজ্ঞাত একজন রয়েছেন।
বিএনপি নেতা রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতুর বিয়ে হয়। নববধূসহ পরিবার নিয়ে মোংলায় ফিরছিলেন।
জানা যায়, খুলনার কয়রায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মোংলায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। আর মোংলা থেকে খুলনায় যাচ্ছিল নৌবাহিনীর বাসটি।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, বেলাইব্রিজ নামক স্থানে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
এর মধ্যে নয়জনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আর চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহতদেরও উদ্ধার করে ওই দুই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে নয়জনের লাশ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুইজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক দিয়ে আসা দ্রুতগামী নেীবাহিনীর স্টাফবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন মারা যান। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, ৪ নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন, অজ্ঞাত একজন এবং মাইক্রোবাসের চালক রয়েছে।