নাটোরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস খেয়ে ১০ জন অসুস্থ

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ঘন্টা আগে
ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরের চলনালী গ্রামে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগে আক্রান্ত একটি গরুর মাংস খাওয়ার পর অন্তত ১০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোঁড়ার মতো ক্ষত ও ফোলা দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রোগের বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ওই গ্রামের প্রায় দুই হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনগত রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে গ্রামের কয়েকজন মিলে গরুটি জবাই করেন এবং পরে মাংস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। এরপর গরুটির মাংস কাটাকাটি, ধোয়া, রান্না ও খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকদিনের মধ্যেই শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

আক্রান্তদের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ধরনের ফোঁড়া ও ক্ষত তৈরি হয়। অসুস্থদের মধ্যে রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাছ আলী জানান, ওই গ্রামের ছয়জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের শারীরিক লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অন্যদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান জানান, অসুস্থ গরুটি জবাই করার বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখা হয়েছিল। পরে খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জবাই করা গরুর অবশিষ্ট সংরক্ষিত মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, রোগের বিস্তার রোধে জরুরি ভিত্তিতে চলনালী গ্রামের প্রায় দুই হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে।

  • অসুস্থ
  • অ্যানথ্রাক্স
  • আক্রান্ত
  • গরুর মাংস
  • নাটোর
  • #