ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেননি পর্যবেক্ষকরা, বাতিল হতে পারে নিবন্ধন

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়ে ৩১ দিনেও ভোটের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেননি দেশীয় পর্যবেক্ষকরা। এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরও কেউ সাড়া না দিলে বাতিল হতে পারে নিবন্ধন। রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন।

ইসি সূত্র জানায়, পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচন শেষ হওয়ার ১ মাসের মধ্যে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো আমরা পাইনি। এজন্য দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সতর্কতামূলক তাগিদপত্র দেওয়া হবে। প্রতিবেদনগুলো পাওয়ার পর আমরা মূল্যায়ন করে প্রধান পয়েন্টগুলো একীভূত করে এপ্রিলের মধ্যে কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেশীয় পর্যবেক্ষকরা একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু এখনো তারা বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এজন্য আমরা একটি সময় নির্ধারণ করে দিয়ে সতর্কতামূলক তাগিদপত্র দেব। এরপর যদি কেউ সময় চায় তাহলে তাকে সময় দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কেউ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা না দেয় তাহলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা না দিলে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বাতিল করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দেয় আর আইন যদি নিবন্ধন বাতিলের বিধান থাকে তাহলে আমরা আইনগতভাবে সেই ব্যবস্থাটা নেব।

দেশীয় পর্যবেক্ষকরা এখনো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়নি এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের জমা দেওয়া উচিত। যদি কোনো কারণে তা না দিতে পারে তাহলে নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করতে পারে। তবে আমি মনে করি প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া ভালো।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক নীতিমালা ২০২৫-এ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া ভোটগ্রহণের ১ মাসের মধ্যে পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে EO-4 ফরমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিশনে জমা দিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশও সংযুক্ত করতে হবে। তবে এই প্রতিবেদন প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থার নিজস্ব পদ্ধতিতে অন্যান্য প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

এদিকে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা লঙ্ঘন বা রাষ্ট্রবিরোধী বা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে নির্বাচন কমিশন। নোটিশে কেন সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করা হবে না—সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হবে।

এতে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্থাটি লিখিত জবাব দাখিল করতে পারবে। প্রয়োজনে শুনানির আবেদন করা যাবে এবং শুনানিতে আইনজীবী নিয়োগসহ আত্মপক্ষ সমর্থনে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে, শুনানির আবেদন না করলে অথবা শুনানিতে উপস্থিত না হলে কমিশন সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, লিখিত জবাব ও শুনানি শেষে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মতামত বা প্রতিবেদন নিতে পারে কিংবা অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

 

  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  • ত্রয়োদশ
  • পর্যবেক্ষকরা
  • প্রতিবেদন
  • #