ধর্ষণের আলামত : কথা বলতে পারছে না শিশুটি, অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে

:
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে
প্রতীকী ছবি

মাদ্রাসাপড়ুয়া এক মেয়েশিশুকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি কথা বলতে পারছে না। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন নেমে যাচ্ছে। অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে। মেডিকেল চেকআপে মিলেছে ধর্ষণের আলামত। তার পরিবারের আশঙ্কা, শিশুটিকে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।

হাসপাতালে শিশুটির মা জানান, তার মেয়েকে সাত-আট মাস আগে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চৈতন্য মোড় স্বর্ণপট্টি এলাকার জামিয়াতুননেছা কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা করে বেতন দিতে হতো। তাঁদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে। মাদ্রাসার নিচতলায় পরিচালক সাইদুল রহমান তাঁর পরিবার নিয়ে থাকেন। আর দোতলায় মাদ্রাসার বাচ্চাদের রাখা হয়। খাওয়া-দাওয়ার জন্য বাচ্চাদের নিচে আনা হয়।

শিশুটির মা জানান, মেয়েকে ভর্তির পর তিনি খবর পেয়েছিলেন—মাদ্রাসায় শিশুদের নির্যাতন করা হয়। দুই-তিন মাস আগে তিনি তাঁর মেয়ের ভর্তি বাতিল করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সেখানেই মেয়ে ভালো থাকবে। আর কোনো ঝামেলা হবে না। তাঁর হাত এড়াতে না পেরে তিনি মেয়েকে রেখে আসেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছে। মেয়ে তাঁকে জানিয়েছিল, ঈদের ছুটিতে তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) তিনি মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখেন—তাঁর মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। মেয়ের পেট ফুলে গেছে। আঘাতের কারণে বাম পাও ফুলে গেছে।

ওই নারী জানান, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী তাঁকে বলেন, ‘আপনার মেয়ের কিছুই হয়নি। বাড়িতে নিয়ে যান।’

তিনি সেখান থেকে মেয়েকে নিয়ে গিয়ে কুষ্টিয়ায় একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরে জানতে পারেন যে—মেয়ের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আজ সোমবার সকালে তিনি মেয়েকে নিয়ে এসে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

আজ দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো রয়েছে। শ্বাসকষ্টের কারণে সে কথা বলতে পারছে না। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। অক্সিজেন দেওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় থাকছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বাচ্চাটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিজে থেকে কিছু বলছে না। তবে প্রাথমিক অবস্থায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। আরও নিশ্চিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাচ্চাটিকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। গাইনি বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না।

যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমান বলেন, ‘আমি গত ছয় দিন ধরে ইতিকাফে রয়েছি। ওই মেয়েটির পায়ে ফোড়া হয়েছে। সেই জন্য অসুস্থ হতে পারে। আমি ডায়াবেটিসের রোগী। কোনো কিছু করতে চাইলে আপনারা তদন্ত সাপেক্ষে করবেন।’ তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভেড়ামারা থানার পুলিশ এই মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র : আজকের পত্রিকা

  • ধর্ষণ
  • মাদ্রাসাপড়ুয়া
  • মেয়েশিশু
  • রামেক
  • #