যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে চীন ও রাশিয়ার কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং তা বন্ধ করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক হামলার পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেন আরাগচি।
আলোচনায় ওয়াং ই চীন সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক সচিব আলি লারিজানির নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তাকে দেশপ্রেমিক ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ইস্যুতে আরাগচি বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন। ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কারণেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।
আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রকৃত আগ্রাসীদের দায়ী না করে উল্টো ইরানের সমালোচনা করছে। এ অবস্থায় চীন ও রাশিয়াসহ সদস্য দেশগুলোর কাছে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে ওয়াং ই বলেন, চীন আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির প্রতি সম্মান বজায় রেখে বিরোধ সমাধানের পক্ষে এবং একতরফা আধিপত্যবাদী আচরণের বিরোধিতা করে।