মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ এশিয়ার মোট ৬টি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। এসব জাহাজে কোনো রকম হামলা করবে না ইরান। খবর এনডিটিভি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারত, কয়েক রাত আগে তাদের দুটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে গেছে। অন্যান্য কিছু দেশও, এমনকি বাংলাদেশও আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং সমন্বয় করেছে। যুদ্ধের পরও এই যোগাযোগ এবং সমন্বয় চলবে।’ তবে আরাগচি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত দেশ বা চলমান সংঘাতে জড়িত শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে না।
পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান প্রণালিটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবরের উল্টো খবর হলো, প্রণালিটি সম্পূর্ণ বন্ধ নয়।’
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘অনেক জাহাজ মালিক বা জাহাজের মালিক দেশগুলো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়।
এই দেশগুলোর মধ্যে কিছু আমরা বন্ধুসুলভ মনে করি, আবার অন্য কারণেও আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই অনুযায়ী আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বর্তমান সংকটে ভূমিকা পালনকারী নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’ বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র।তাই আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু এটি অন্যদের জন্য খোলা থাকবে।’
প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহের শুরুতে ইরান পাকিস্তানগামী একটি কন্টেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে বাধা দেয়। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নোঙরখানা থেকে করাচির দিকে যাত্রা করা ‘সেলেন’ নামের জাহাজটিকে যাতায়াতের অনুমতিপত্র না থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রবেশপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়।