রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউ সংকট : দুই সপ্তাহে ৪৪ শিশুর মৃত্যু

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সংকটে গত দুই সপ্তাহে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি মাসের ১০ মার্চ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে এসব শিশু মারা যায়।

ডা. মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি শয্যা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য এবং ১৬টি শয্যা জেরিয়াট্রিক রোগীদের জন্য। বাকি ১২টি শয্যা শিশুদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেগুলো মূলত হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু করা হয়েছে, যেগুলোর কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন নেই।

তিনি আরও জানান, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশুদের পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় সেসব এলাকা থেকেও গুরুতর রোগীদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ফলে আইসিইউ ওয়ার্ডে সব সময়ই অতিরিক্ত চাপ থাকে। ১২টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি শিশু সিরিয়ালে থাকে। এমনকি আজকেও ৪৮টি শিশু আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষায় সিরিয়ালে ছিল।

ডা. মোস্তফা কামাল আক্ষেপ করে বলেন, আইসিইউতে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ সব রোগীই সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকে। ফলে কাউকে বাদ দিয়ে কাউকে আগে সিরিয়াল দেওয়ার সুযোগ নেই। আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ এসব রোগীদের মধ্যে থেকেই প্রতিদিন শিশু মারা যাচ্ছে। আইসিইউতে ভর্তি করা গেলে হয়তোবা তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো। এজন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নাই।

হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ব্যাপক আইসিইউ সংকট রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী এখানে ভর্তি হওয়ায় প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। তারা সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিচালক জানান, গতকালও হাসপাতালের দুটি ইউনিটে শিশু রোগী ভর্তি ছিল ৭৫০ জন, অথচ ওই দুই ইউনিটে মোট শয্যা সংখ্যা মাত্র ১৬০টি। তিনি বলেন, এই ব্যাপক পরিমাণ রোগীর ৫ শতাংশেরও আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আইসিইউতে ভর্তির দরকার হয়। অথচ শিশুদের জন্য আইসিইউ সুবিধা আছে মাত্র ১২টি।

সংকট উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, আইসিইউ এমন জায়গা যেখানে একবার ভর্তি হলে অবস্থার উন্নতি না হলে কিংবা মৃত্যু না হলে বের করা যায় না। তবে আমরা এই সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। হাসপাতালের নতুন আরেকটা পাঁচতলা ভবনে ৫০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স ভবন তৈরি করা হয়েছে। শুধু জনবল আর সরঞ্জামাদি পেলে আমরা আইসিইউ সুবিধা চালু করতে পারি। প্রাথমিকভাবে ২০ শয্যার নিউ বর্ন শিশুদের জন্য এনএইচসি আইসিইউ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জনবল ও সরঞ্জামাদি পেলেই দ্রুত তা চালু করা হবে। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এসব বিষয় উপস্থাপন করেছি।

এদিকে, নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২ শয্যার আইসিইউ সুবিধাসহ ২০০ শয্যার রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি এখনো চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামাদির অভাবেই হাসপাতালটি পড়ে আছে। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • আইসিইউ
  • মৃত্যু
  • রাজশাহী মেডিকেল
  • শিশু
  • সংকট
  • #