ফের হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল এখন কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র বা সমর্থক দেশগুলোর বন্দর থেকে আসা বা সেখানে গমনকারী জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘোষণার পরপরই অন্তত তিনটি চীনা কনটেইনার জাহাজ সতর্কবার্তার মুখে প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের এ ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারো বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থান।
আইআরজিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিচ্ছেন। দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে—তার এমন দাবি সঠিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ এখনো তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির প্রস্থ সবচেয়ে সরু অংশে মাত্র ২৪ মাইল। কিন্তু কার্যত জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ থাকে দুটি সংকীর্ণ লেনে। ফলে এটি একটি ‘চোকপয়েন্ট’-এ পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি পুরো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। খোলা সমুদ্রে জাহাজ বিকল্প পথ নিতে পারে, কিন্তু এখানে সে সুযোগ নেই। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করার প্রয়োজনও পড়ে না, তারা শুধু হামলা করতে চাইলে সেটাই যথেষ্ট।