ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও আইএমএফ সহায়তার দিকে নজর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ঘন্টা আগে

ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় একগুচ্ছ নীতিগত পদক্ষেপ ও বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকায় সিনিয়র সাংবাদিক ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ও ডেপুটি গভর্নররা বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সবল দিকগুলোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।

ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, যুদ্ধ তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত চললেও আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই ডলার বিনিময় হারও স্থিতিশীল রয়েছে এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।

ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে মৌসুমি প্রভাব—বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে—রেমিট্যান্স ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া জুন মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে কমদামে বা অনুদান হিসেবে জ্বালানি আমদানির চেষ্টাও করছে। এছাড়া সরকার আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা যাবে বলেও মনে করা হচ্ছে, এজন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে চাহিদা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কৃষিখাতে সহায়তা বাড়াতে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা সম্প্রসারণ এবং নতুন কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।

৬০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল জুন থেকে ঋণ বিতরণ শুরু করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে বন্ধ থাকা সব কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আর্থিকখাতকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করাও অগ্রাধিকারে রয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেমন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক বেকার হয়ে দেশে ফিরতে পারেন। এতে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জ্বালানিতে ভর্তুকি না দেওয়ার চাপ দিতে পারে, যা মূলস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, যা কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এতে সরকারের পরিচালন বাজেটেও ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থবহ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি হওয়া প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

  • ইরান
  • ঋণ
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
  • প্রভাব
  • মোকাবিলা
  • যুদ্ধ
  • #