দেশে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হামের উদ্বেগজনক বিস্তার ঘটেছে। এই সময়ে ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৫ গুণ বেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল মাত্র ৯ জন, ২০২৪ সালে ছিল ৬৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যদিও বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১৫ জন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয়জন, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, মায়ের বুকের দুধ কম পান, কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়া এবং অপুষ্টির কারণে হামের সংক্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি ভাইরাসের ধরনে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার কথা বলছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪৫ জন (৩৬.২৪ শতাংশ) আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এরপর রাজশাহীতে ১৩৭ জন (২০.২৬ শতাংশ), চট্টগ্রামে ৯৩ জন (১৩.৭৫ শতাংশ), ময়মনসিংহে ৮০ জন (১১.৮৩ শতাংশ), বরিশাল ও খুলনায় ৫১ জন করে (৭.৫৪ শতাংশ), সিলেটে ১৩ জন (১.৯২ শতাংশ) এবং রংপুরে ছয়জন (০.৮৮ শতাংশ) হাম আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো টিকা প্রদান না করায় দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। হামের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও চার মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। কেন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংক্রমণ ঘটছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তা হলে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে।