রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থাকা শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। একই সঙ্গে পরিস্থিতির পেছনে থাকা সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব বলেন, শিশুদের এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এ জন্য তারা দুঃখিত। তিনি স্বীকার করেন, আইসিইউ সংকটসহ কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য এখানে মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে, যা সরকার অনুমোদিত নয় এবং হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একটি বেড পেতে ৩০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে ৩৯ শিশু, যাদের মধ্যে ১৬ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত। গত ১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে সাতটি ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যসচিব। এছাড়া সংক্রামক রোগে আক্রান্ত নয়—এমন শিশুদের প্রয়োজনে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালের অবকাঠামো ব্যবহার করে সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সচিব বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা সংক্রমণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এদিন হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।