কুমিল্লায় বিদ্যালয়ে ঢুকে ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর ও লুটপাট

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ১ দিন আগে

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে মব সৃষ্টি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর এবং লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপশি বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।

হাসিনা ইসলাম জানান, গত রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে আমিনুল ইসলাম সুজন অর্ধশতাধিক সমর্থক নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে একটি ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তারা প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের পর একপর্যায়ে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকাপয়সাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আরও জানান, আমিনুল ইসলাম সুজন ওই বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষক ছিলেন। জাল সনদ ধরা পড়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি সুজন দাবি করেন যে আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে, যা সঠিক নয়। এমন মিথ্যা দাবি করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি জোরপূর্বক কর্মস্থলে যোগদান করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, “হাইকোর্ট থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি রায় পেয়েছি। তারপরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর তার সঙ্গে হট্টগোল হয়। তবে কেউ যদি তাকে আঘাত করে থাকেন, আমি নিজেও তার বিচার চাই। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্য সব অভিযোগ সঠিক নয়।”

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির সেলিম আহমেদ জানান, শিক্ষিকার ওপর হামলার ঘটনার পর রাত ১২টায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমাদের একটি টিম ইতিমধ্যে তিনবার সেখানে গিয়ে তদন্ত করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এই ঘটনায় আদালতে রিট হয়েছে। এদিকে শিক্ষিকার ওপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • কুমিল্লা
  • প্রধান শিক্ষিকা
  • বিদ্যালয়
  • মারধর
  • লুটপাট
  • #