যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলায় আহত যুবলীগ কর্মী মারা গেছেন

: যথাসময় ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ ঘন্টা আগে

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজার থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতার নেতৃত্বে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া শহর যুবলীগ কর্মী (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আলাল শেখ (৩৬) মারা গেছেন। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে মারা যান।

এর আগে, ২৮ মার্চ সকালে ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন চলাকালে সাধারণ সম্পাদক পদের ওই প্রার্থীকে ধরে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বাগানের মধ্যে নিয়ে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। হামলার পর পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করলেও মূলহোতাকে যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

শুক্রবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজিব হোসেন জানান, আগের ৫৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পুলিশ, মামলা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া শহর যুবলীগের সক্রিয় কর্মী আলাল শেখ শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপাড়ার মেরু শেখের ছেলে। তিনি শহর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক আলোচিত মতিন সরকারের শ্যালক। আলাল শেখ বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গত ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একই পদে প্রার্থী ছিলেন। তিনি ওই বাজারে মাংসের ব্যবসা করতেন। গত নির্বাচনে এ পদে আলাল শেখের কাছে বিপুল ভোটে জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পরাজিত হন।

ওই দিন সকাল ৯টার দিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বাজার থেকে আলাল শেখকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা যুবদল কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে শহরের মালগ্রাম ডাবতলা এলাকায় বাগানের মধ্যে নিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে তাকে মারধর ও কুপিয়ে দুই পা ও একটি হাত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পায়ের রগ কেটে ও বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়। নির্যাতনে অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে (আলাল) রিকশায় তুলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

সেখানে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিকাল ৩টার দিকে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ও কিডনি অকেজো হলে বৃহস্পতিবার ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে আলাল শেখ মারা যান।

এদিকে গত ২৮ মার্চ ঘটনার রাতে আহত যুবলীগ কর্মী আলাল শেখের বাবা মেরু শেখ সদর থানায় জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের পর হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। ডিবি পুলিশ এজাহারনামীয় চার আসামি রনি শেখ (৩০), তৌফিক খান (২৬), গোলাম রসুল নাহিদ (৩০) ও সুমন মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করে। এরপর বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ মূল আসামি জেলা যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম ও অন্যদের গ্রেফতার করেনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাজিব হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আলাল শেখ ঢাকার পিজি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাকে হত্যাচেষ্টার আগের মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ওই ঘটনার পর যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামকে দলীয় পদ ও সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বগুড়া জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান বলেন, শফিকুল ইসলাম বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে তাকে যুবদলের পদ–পদবি থেকে অব্যাহতি ছাড়াও সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • আহত
  • মৃত্যু
  • যুবদল নেতা
  • যুবলীগ কর্মী
  • হামলা
  • #