ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবম দিনে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব কোম্পানির কাছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ সময় বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ এবং দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী জানান, যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের সিনিয়র ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ব্যাংকার্স সভার মাধ্যমে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া বেশি খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ রেজল্যুশন কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ বিআরপিডি সার্কুলার-০৬ জারি করা হয়েছে, যেখানে তাদের শনাক্তকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আইন বিভাগ শক্তিশালী করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণ ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ ১১, ১১৭ কোটি টাকা: বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এছাড়া আদালতের নির্দেশনার কারণে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বর্তমানে খেলাপি হিসেবে দেখানো হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানান, দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো— এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, এস. আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইসপাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি., ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাজট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।