রাঙামাটিতে বিয়েতে পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিকযুগল। গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বরকলের ভূষণছড়া ইউনিয়নের বগাছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন কাপ্তাই উপজেলার সুরেশ কান্তি চাকমার ছেলে সুভাষ কান্তি চাকমা (২৭), এবং বগাছড়ি এলাকার শান্তি রঞ্জন চাকমার কন্যা ইনা চাকমা (২৬)।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, নিহত তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সম্মতি নিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু সম্মতি না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
বগাছড়ি এলাকার কারবারি প্রমিশ চাকমা জানিয়েছেন, রোববার সুভাষ কান্তি চাকমা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইনা চাকমার বাড়িতে গিয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথাও এগোলেও এ সময় ইনার পরিবার জানতে পারে, সুভাষ কান্তির আগে বিয়ে হয়েছে। তার ঘরে স্ত্রী রয়েছে।
কিন্তু সুভাষ কান্তি অভিযোগ করে জানান, তার আগে বিয়ে হলেও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। কিন্তু গ্রামবাসী ও ইনার পরিবার এ যুক্তি মেনে নেয়নি। তারা জানিয়ে দেন এ বিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় অভিমান থেকে পরে দুজন আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
ভূষণছড়া ইউনিয়নের প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বলেন, গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে কিন্তু এলাকা দুর্গম হওয়ায় লাশ থানায় নেওয়া যেতে কিছুটা সময় লাগেছে।
বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা গেলেও কাপ্তাই হ্রদে পানি না থাকায় মরদেহগুলো রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো যায়নি। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মরদেহগুলো পাঠানো হবে।